উজানে এবং জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজারের হাওরের নিম্নাঞ্চল থেকে প্রতিদিনই পানি কমছে। তবে এখনও জেলার তিনটি উপজেলার অর্ধ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছেন কয়েক হাজার পরিবার।
বিশেষ করে জেলার কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম এখনও তলিয়ে আছে পানিতে। বাড়ি ফিরতে না পারা ওই আশ্রিতরা এবার ঈদ উদযাপন করেছেন আশ্রয়কেন্দ্রেই।
একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কুলাউড়া উপজেলার প্রত্যন্ত আহমদপুর গ্রামের দিনমজুর পলি আক্তার জানান, বন্যা শুরুর দিকে প্রথম ১০ দিন দুই সন্তানকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু শেষে চলে আসেন আশ্রয়কেন্দ্রে। নিজে অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও গ্রামে একটি ঘর আছে। সেটি পানিতে তলিয়ে থাকায় ঈদ করতে হচ্ছে বশির উদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে।
পলির মতো পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ঈদ উদযাপন করছেন আশ্রয়কেন্দ্রে।

এদিকে কুলাউড়া জুড়ি ও বড়লেখার নিম্নাঞ্চলের অনেক ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামে পানি না নামায় কবে বাড়ি ফিরবেন সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে আশ্রয়কেন্দ্র থাকা মানুষগুলোর।
আরও পড়ুন: চামড়ায় এবারও হতাশ মৌসুমী বিক্রেতারা, সিন্ডিকেট করার অভিযোগ
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার কুলাউড়া, জুড়ি ও বড়লেখার প্রত্যন্ত এলাকার ১০৪টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ পানিবন্দি মানুষের মধ্যে দুটি গরু জবাই করে রান্না করা মাংস ও খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫০০ পরিবারের মধ্যে ঈদ উপলক্ষে শুকনো খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানিয়েছেন, বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
একাত্তর/এসি
