দোটানায় পড়েছেন হবিগঞ্জের চা শ্রমিকরা। মৌলভীবাজারে শ্রমিকরা চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করে আপাতত ১২০ টাকা মজুরিতে কাজে যোগ দিলেও হবিগঞ্জের চা শ্রমিকরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা এখনও কাজে যোগ দেননি।
সোমবার (২২ আগস্ট) সকাল জেলার চুনারুঘাটের চান্দপুর চা বাগানের সাধারণ শ্রমিকরা কাজে না গিয়ে ফ্যাক্টরির সামনে আন্দোলনে যোগ দেন। একইভাবে অন্য চা বাগানে শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
শ্রমিকরা জানান, তাদের কাছে শ্রমিক নেতারা এসে স্পষ্ট করে জানালে কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগ পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না।
এদিকে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান চান্দপুর চা বাগানে এসে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সোমবার দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের সঙ্গে বৈঠক হয় চা বাগানের শ্রমিক নেতাদের। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, চা শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন এবং কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তা মেনে নেবো।
কিন্তু সোমবার সকালে হবিগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানে গিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা ৩০০ টাকা মজুরি ছাড়া কাজে ফিরবেন না। এখানে শ্রমিক নেতাদের এক বক্তব্য। অন্যদিকে সাধারণ শ্রমিকদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীতে আস্থা রেখে রণে ভঙ্গ, কাজে ফিরলেন চা শ্রমিকরা
প্রসঙ্গত, ৩০০ টাকা মজুরি আদায়ে ৯ থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত দৈনিক দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের ১০ জন শ্রমিক নেতার সঙ্গে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসলেও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। তাই শনিবার (১৩ আগস্ট) থেকে টানা ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে শ্রীমঙ্গলে আসেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী। তিনি ধর্মঘট স্থগিত করে আলোচনায় বসার আহবান জানালে চা শ্রমিক ইউনিয়ন তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
একইভাবে বুধবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে চা-বাগান মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরীর বৈঠক হয়। সন্ধ্যায় ছয়টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় রাত ১১টায়।
সেদিন চা শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মতো ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকের পরও কোনো সমঝোতা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক নেতারা বৈঠক করে দাবি আদায়ে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শনিবার (২০ আগস্ট) বিকেল তিনটার দিকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে বৈঠকের মাধ্যমে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি হিসেবে ১৪৫ টাকার ঘোষণা করা হয়। এরপর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন চা শ্রমিক নেতারা। কিন্তু সন্ধ্যার পর আবারও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
একাত্তর/এসি
