উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায়, প্রয়োজনীয় সার না পাওয়াসহ নানা কারণে লালমনিরহাটে কমছে গমের আবাদ। অথচ গম আবাদেই একসময় পরিচিত ছিলো এই জেলা।
জেলার কৃষকরা বলছেন, চলতি বছর গমের যে আবাদ হয়েছে তাতে ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে বিক্রি মূল্যও ভালো পাওয়া গেছে।
কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তা না পাওয়ায় কৃষকরা গম আবাদের চেয়ে অন্য ফসলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। এতে দিনদিন গমের আবাদ হারিয়ে যাচ্ছে।
এক সময় গম আবাদে বেশ পরিচিতি ছিলো লালমনিরহাট জেলা। কিন্তু এখন আর আগের মতো এই ফসলের চাষ হয় না।
কৃষকরা বলছেন, সার, কীটনাশকসহ উৎপাদন খরচ বেশি হওয়া এবং গম চাষে সচেতনতা বাড়ানোর কোন পদক্ষেপ না থাকায় কৃষকরা অন্য ফসলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
কৃষকরা আরও জানান, জেলায় গমের বাজার মনপ্রতি ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা। এতে লাভবান হচ্ছেন তারা। কিন্তু প্রণোদনা না পাওয়ায় এই ফসল চাষে আগ্রহী হারাচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, কয়েক বছর আগেও প্রত্যেক কৃষক গম চাষ করতেন। বর্তমানে কম সংখ্যক কৃষক গম চাষ করছেন, তারপরও পরিমাণে কম জমিতে।
এক সময়ে লালমনিরহাটের কৃষকদের ধান, গম, সরিষা, ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি চাষের জন্য সুনাম ছিল। কিন্তু এখন মাঠের পর মাঠ শুধু তামাকের ক্ষেত চোখ পড়ে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও বলছেন, কৃষি পণ্যের দাম বাড়ায় কৃষকরা গম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। তাই প্রতি বছর লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে কম গম পাওয়া যাচ্ছে।
আগের তুলনায় গমের চাহিদা অনেক বেড়েছে, তবে দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে গম চাষ। দেশে গমের চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে গম আমদানি করতে হচ্ছে।
লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন ৬০-৬৫টি ট্রাকে গম আমদানি করা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাকে ২৫-৩০ মেট্রিক টন গম আনা হচ্ছে।
একাত্তর/আরবিএস
