দখল-দূষণ আর ডুবোচরে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইলিশের অভয়াশ্রম আন্ধারমানিক নদী। ইলিশের প্রজনন মৌসুমেও এখানে মিলছে না কোন মাছ।
বাধ্য হয়ে পেশা বদল করছেন জেলেরা। এমন পরিস্থিতিতে আন্ধারমানিক নদী খনন আর দূষণমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন গবেষকরা।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অন্যতম এক উপকূলীয় নদী আন্ধারমানিক। দীর্ঘদিন ধরে এই নদী ছিলো ইলিশের অভয়াশ্রম। ছিলো মাছটির ডিম পাড়ার অন্যতম ক্ষেত্র।
কিন্তু দখল-দূষণ আর ডুবোচরের কারণে অস্তিত্ব সঙ্কটে এই নদী। পলিথিনসহ আবর্জনার স্তুপ আর বালুতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে এর গভীরতা কমে গেছে।
দখলে সরু হয়ে গেছে নদী। এ কারণে আগের মতো আর এই নদীতে আর মাছ পাওয়া যায় না।
আগে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় আন্ধারমানিক নদীতে মাছ ধরে জীবিকা চালাতেন জেলেরা। এখন মাছ না পেয়ে পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
গবেষক ইকবাল ফারুক বলছেন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, দূষণ আর ডুবোচরের কারণে আন্ধারমানিক নদীর নাব্যতা কমে গেছে। তাই প্রজনন মৌসুমে গভীর সাগর থেকে এই নদীতে আর ইলিশ আসতে পারে না।
স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছ্বাসের পর থেকে উপকূলীয় নদীর গভীরতা কমে গেছে। তাই আন্ধারমানিক নদীকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসাবে টিকিয়ে রাখতে জরুরি হয়ে পড়েছে নদী খনন।
আর খননের পাশাপাশি আন্ধারমানিক নদীকে দূষণ-দখল থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন, পরিবেশবিদ ও বাংলাদেশ পরিবেশ অন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল
এখনই খনন আর দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ না নিলে আন্ধারমানিক নদীটি মরা খালে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন জেলে আর পরিবেশবিদরা।
একাত্তর/এআর
