প্রচারে সরগরম চার সিটি কর্পোরেশন। ১২ জুনের নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বরিশাল এবং খুলনায়। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে উঠেছে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ২১ জুনের নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার শুরু হয়েছে রাজশাহী ও সিলেটেও। রাজশাহীতে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন নৌকার প্রার্থী। আর নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছুটছেন সিলেটের প্রার্থীরা।
রাজশাহী নগরীর প্রায় প্রতিটি মোড়ে মোড়ে টাঙানো হয়েছে নৌকার পোস্টার। নির্বাচনী মাঠে নেমেই ইশতেহারে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বেকারত্ব কমানো ও উদ্যোক্তা তৈরির বিষয় তুলে ধরেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
এই মেয়র প্রার্থী বলেন, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্বাচনী কৌশল ঠিক করছি। সে অনুযায়ী আমরা ভোটের প্রচার চালিয়ে যাবো। এক নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রচার শুরু করে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে শেষ করবো।
নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নেমেছেন অন্য তিন মেয়র প্রার্থীও। বিভিন্ন মহল্লায় গণসংযোগ চালিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতীক বরাদ্দের আগেই একজন মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা পোস্টার ফেস্টুন ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছে। এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্ন হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার বলেন, ২১ জুন রাজশাহী সিটিতে ভোট হবে। এই সিটিতে ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন। ইভিএমের মাধ্যমে ১৫৫টি কেন্দ্রে ভোট নেয়া হবে।
এদিকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাত মেয়র প্রার্থী। নির্বাচিত হলে স্মার্ট, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। শনিবার সকাল থেকে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে।

সকাল ১১টায় শাহজালালের মাজার জিয়ারত করে প্রচারে নামেন নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি নগরীর ১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রচারণা চালান। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল দুপুর ১২টায় নগরীর বন্দরবাজারস্থ লালকুঠি সিনেমা হল থেকে আশেপাশের এলাকায় গণসংযোগ ও বিকেলে নগরীর শিবগঞ্জস্থ শাকিল কমিউনিটি সেন্টারে মতবিনিময় সভা করেন।
অপরদিকে, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ বাড়ছে বরিশাল সিটি নির্বাচনে। এরই মধ্যে ঘটেছে সংঘর্ষের ঘটনাও। ১২ জুন যতই ঘনিয়ে আসছে, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের স্নায়ুচাপ বৃদ্ধির সাথে প্রচারণার মাত্রাও ততই বাড়ছে।
সঙ্গে রয়েছে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের প্রতিযোগিতাও। আসন্ন সিটি নির্বাচনকে ঘিরে এ নগরী থেকে নির্বাচনী আচরণ বিধিকে অনেক আগেই নির্বাসনে দিয়েছেন প্রার্থীরা। তবে প্রার্থীরা বলছেন, তারা আচরণবিধি মেনেই প্রচার চালাচ্ছেন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে দুইজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে। তবুও মেয়র প্রার্থীরা বলছেন, তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।
অসম লড়াইয়ের পরও খুলনার সিটিকে গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সাংগঠনিক ভিত্তি, মন্ত্রী পদে পাঁচ বছর, মেয়র পদে দশ বছর এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় প্রচারের দৌড়ে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন তালুকদার আব্দুল খালেক।
তবে, মেয়র পদ ছাপিয়ে আলোচনায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রতিদিনই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারে বাধা, হুমকি-ধমকি, পোস্টারের ওপরে পোস্টার সাঁটা, ছেঁড়া, টাকা ছড়ানোসহ পরস্পরের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ করছেন তাঁরা।
খুলনা সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এরিমধ্য দু’জন কাউন্সিলর প্রার্থীকে কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও দেয়া হবে।
একাত্তর/এসজে
