ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী থেকে এখনো সরানো হয়নি দুদফা বিস্ফোরণের পর পুড়ে যাওয়া জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ সাগর নন্দিনী-২। নদী থেকেও অপসারণ হয়নি ছড়িয়ে পড়া তেল।
এতে নতুন দুর্ঘটনার শঙ্কায় নদীর দুই পাড়ের মানুষ। জাহাজটি মাঝনদী থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে দ্রুত তেল অপসারণের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে সোমবার দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণের পর আগুনে পুড়ে যায় তেলবাহী জাহাজ সাগর নন্দিনী-২। টানা ১১ ঘন্টার আগুনে পুড়তে থাকে জাহাজের চার লাখ টন তেল।
ফায়ার সার্ভিসের অভিযানে আগুন নিভলেও জাহাজটির চেম্বারে এখনো পোড়া তেল ভাসছে। এছাড়াও নদীতে ছড়িয়ে পড়েছে তেল। ছড়িয়ে পড়ছে দূষণ।
এখনো জাহাজে তেল নদীতে ভাসতে থাকায় নতুন করে বিস্ফোরণের শঙ্কায় দ্রুত তেল উত্তোলন ও জাহাজটি সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন সুগন্ধা পাড়ের মানুষ।
একাধিক ফায়ার ইউনিট ফোম ক্যামিকেল ব্যবহার করেছে। নতুন কোন দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকতে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাও দিয়েছেন একই রকম পরামর্শ।
বুধবার প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস বর্তমান অবস্থায় জাহাজ থেকে পানি তুলে ফেলার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঝালকাঠিকে।
বিকেল সাড়ে ৪টায় পানি অপসারণের কাজ শুরু করেছে ফায়ার ফাইটার দল। জাহাজে জ্বালানি পুড়ে যাওয়ার পরও একটি বাঙ্কারে জ্বালানি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত পয়লা জুলাই সুগন্ধা নদীতে নোঙর করে রাখা জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ সাগর নন্দিনী-২ এর বিস্ফোরণে ৪ জন মারা যায়। মাত্র দুদিন পর একই জাহাজে দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে আহত হন পুলিশ সদস্যসহ ১৪ জন।
সাগর নন্দিনী-২ ২৬ জুন চট্টগ্রাম ডিপো থেকে ঝালকাঠি ডিপোর জন্য ছয় লাখ ৭৬ হাজার ৮৪৪ লিটার ডিজেল, চার লাখ ছয় হাজার ২৪৯ লিটার পেট্টোলসহ ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩ লিটার জ্বালানি নিয়ে আসে। ২৮ জুন ঝালকাঠি সুগন্ধা নদীতে নোঙ্গর করে।
একাত্তর/এআর
