বৃষ্টি,
পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার
তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য, পানি ও ওষুধ সংকট।
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ১৮টি এবং পেকুয়ার ৭টি ইউনিয়ন পানিতে ডুবে আছে। এই দুই ইউনিয়নে আড়াই লাখের বেশি মানুষ পানি বন্দি।
চুলায় আগুন নেই, খাবার পানি সংকটে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছেন এখনকার মানুষ। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা নিয়ে নিরাপদ পথ খুঁজছে দুর্গত এলাকার মানুষজন।
শুধু চকরিয়া বা পেকুয়া নয়, কক্সবাজার সদর, রামু মহেশখালী, কুতুবদিয়া, উখিয়া টেকনাফের ৩৫টি ইউনিয়নের মানুষও পানির নিচে। ছোট-বড় ৪৬ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। নিজের শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় এক প্রকার যুদ্ধে নেমছেন বানভাসী মানুষ।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চকরিয়া পেকুয়া থেকে লোকজন সরানো ও খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে নৌ-বাহিনী। পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্পে কাজ করছে সেনাবাহিনী।
টানা বৃষ্টিতে মঙ্গলবার নতুন করে বহু এলাকায় পানি ঢুকেছে। জেলার ৭টি উপজেলাতেই এখন বন্যা-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১৭ মিলিমিটার। আগামী ৩ দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, খাল নদী ভরাট, পানি চলাচলের পথ দখল করায় বন্যায় ভাসছেন মানুষ। বন্যা দুর্গত এলাকায় ৪৯ মেট্টিক চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এদিকে ভারী বর্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ের টিলায় বসবাসকারী রোহিঙ্গারা বেকায়দায় পড়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, কক্সবাজারের ৬০ ইউনিয়নের ২ লাখ ৯৩ হাজার ১৫৩ জন পানি বন্দি রয়েছে। আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৩৩ হাজার ৭ শো ৩৭ জন। পাহাড় ধস, পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে ৬ জন মারা গেছে।
সড়ক তলিয়ে থাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কে দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ভারী বৃষ্টির কারণে দোহাজারী হাইওয়ে থানার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর কসাইপাড়া, পাঠানীপুল, দোহাজারী পৌরসভার কলঘরব্রিজ এলাকায় রাস্তার উপর প্রায় আড়াইফুট এবং সাতকানিয়ার কেউচিয়ার নয়াখাল, নতুন রেললাইন, কেরানীহাটবাজার এবং ছদাহার হাসমতের দোকান এলাকায় মহাসড়কের ওপর দিয়ে একফুটের বেশি পানি উজান থেকে ভাটির দিকে প্রবাহিত হলে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। কিছু বড় যান ধীরগতিতে চললেও ছোট ও মাঝারি যান চলাচল বন্ধ থাকে। এর আগে সোমবার থেকে বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া এলাকায় পানি উঠে কক্সবাজার-চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়।
জোয়ারের ঢেউয়ে মেরিনড্রাইভ, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা পয়েন্ট, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন অব্যাহত আছে। মেরিনড্রাইভের কিছু অংশে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নতুন করে আরও কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়।
সোমবার রাতে টানা বৃষ্টিতে শহরের পর্যটন জোনের প্রধান ও উপসড়কে এক-দেড়ফুট পানি প্রবাহিত হয়। অনেক হোটেলের নিচতলায় পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতি হয়। সৈতকপাড়ায় অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই অবস্থা পাহাড়তলী, লাইটহাউজ, রহমানিয়া মাদরাসা এলাকায়ও।
একাত্তর/কেএসএইচ
