নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি মসজিদের নামকরণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মসজিদে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কামশাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ৭০ বছর আগে কামশাইর দক্ষিণপাড়া গ্রামের আফি ভূইয়া মসজিদ নির্মাণের জন্য ৬ শতাংশ জমি দান করেন। সেই মসজিদে নির্মাণ করে সমাজের লোকজন নামাজ আদায় করে আসছিল। মসজিদের নামকরণ করা হয় কামশাইর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ। ৩ বছর আগে স্থানীয় হাকিম ভূইয়া, নোয়াব ভূইয়া, আফাজউদ্দিন ভূইয়াসহ কয়েকটি পরিবার ওয়াকফা স্টেটের মাধ্যমে মসজিদটির নাম কামশাইর দক্ষিণ ভূইয়া পাড়া মসজিদ হিসেবে নামকরণের অনুমতি নিয়ে আসে। দুই বছর আগে বর্তমান মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন এ অনুমতির বিরুদ্ধে আপিল করেন। বর্তমানে তা তদন্তাধীন।
এদিকে শুক্রবার সকালে মসজিদের বর্তমান কমিটি প্রধান দরজার ওপরে টাইলস দিয়ে 'কামশাইর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ' নেমপ্লেট বসায়।
এ নিয়ে জুমার নামাজের পর হাকিম ভূইয়া, আফাউদ্দিন ভূইয়াসহ কয়েকজন নেমপ্লেট নামিয়ে ফেলার জন্য বললে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় আহত হন- লুদ্দুছ খা (৬৫), আফাউদ্দিন ভূইয়া (৬৪), সেতারা বেগম (৬০) , সোহানা আক্তার (৪০), সোহাগী বেগমসহ (৪২) ছয়জন। আহতদের মধ্যে লুদ্দুছ খা ও আফাউদ্দিন ভূইয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ঘটনা জের ধরে রাত ১০টার দিকে হাকিম ভূইয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মসজিদের সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা মসজিদের হামলা চালিয়ে প্রধান দরজার ওপরে টাইলস দিয়ে বসানো নেমপ্লেট, মসজিদের চারটি জানালার গ্লাস ভাংচুর করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তখন মসজিদে মাইকিং করলে এলাকাবাসী ধাওয়া করে লুৎফর নামে একজনকে আটক করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসলে এলাকাবাসী আটক ব্যক্তিকে পুলিশে দেয়। তবে মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুপক্ষ।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষ রূপগঞ্জ থানায় আলাদা দুটি অভিযোগ জমা করেছে।
এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) আবির হোসেন বলেন, মসজিদ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
