কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রল বোমা হামলাসহ তিনটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে খালেদা জিয়া অনুপস্থিত থাকায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চার্জ গঠনের তারিখ পিছিয়েছে আদালত।
বুধবার আসামি পক্ষের আইনজীবীদের আবেদনে চার্জ গঠনের তারিখ পেছান কুমিল্লা আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলাল উদ্দিন।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় মামলায় হাজিরা দিতে আসেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী।
বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান আসামি পক্ষের আইনজীবী কাজী নাজমুস সাদাত, কাইমুল হক রিংকু ও মোহাম্মদ আক্তার হোসাইন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ২০১৫ সালের তিন ফেব্রুয়ারি ভোরে চৌদ্দগ্রামে হরতাল-অবরোধ চলাকালে আইকন পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪০৮০) পেট্রল বোমা ছোড়া হয়। এ সময় বাসের সাত যাত্রী পুড়ে ঘটনাস্থলে নিহত এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান হাওলাদার ওই দিন বিকেলে (৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫) ৫৬ জনের নামে এবং অজ্ঞাত ৭০/৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০১৭ সালের দুই মার্চ ৭৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেন চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম।
মামলার প্রধান আসামি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এই মামলার ৫১ নম্বর আসামি বেগম খালেদা জিয়া।
মামলায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে আছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম এমকে আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সালাউদ্দিন আহমেদ, শওকত মাহমুদ, মনিরুল হক চৌধুরীসহ অনেকে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী কাজী নাজমুস সাদাত বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে আদালতের নির্দেশে সরকারের হেফাজতে আছেন। তাই তাকে উপস্থিত করার দায়িত্ব সরকারের। যেহেতু তিনি অসুস্থসহ অনেকেই অনুপস্থিত তাই আমরা আবেদন করি। আদালত তা গ্রহণ করেছে। চার্জ গঠনের তারিখ কবে তা পরে জানা যাবে।
এদিকে ২০১৫ সালের চৌদ্দগ্রামের হায়দারপুলে কাভার্ডভ্যান পোড়ানোর ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরও একটি মামলায় আসামিদের উপস্থিতির শুনানি একই আদালতে একই সময় অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, শেখ হাসিনা তার অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে যাচ্ছে।
তার দাবি, বিএনপির প্রায় ৪৫ থেকে ৪৯ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবার আরেকটা নির্বাচন করে তার অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে এসব মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার একটি এই বোমা হামলার মামলা। এবার আর কোন সুযোগ নেই। জনগণ জেগে উঠেছে।
রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্যাতনের কারখানায় পরিণত, অভিযোগ বিএনপির