কুমিল্লার বন্যাকবলিত বুড়িচং থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। মনোহরগঞ্জে বাড়িঘর এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের। পাঁচ উপজেলায় বাড়ছে পানিবাহিত নানা রোগব্যাধি। গোমতীর বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষের দুঃখকষ্ট ও দুর্ভোগের শেষ নেই।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বুড়বুড়িয়া এলাকায় বাঁধের ভাঙনের অংশ দিয়ে পানি প্রবেশের ফলে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া দুই উপজেলা বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই বাঁধ মেরামত করে পানি প্রবেশ বন্ধের দাবি স্থানীয়দের।
গোমতীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তালিয়ে গেছে অনেকের বাড়িঘর। তারা এখনও বাঁধের ওপরেই রয়েছেন পলিথিনের ঝুপরিতে।

গেলো ৯ দিন ধরে রুপা সাহার মত কয়েকশ পরিবারের মানুষ দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের বাড়ি ভেঙে গেছে, এখন কোথায় যাবেন? মানুষের সহযোগিতায় খাদ্য মিলছে, এবার বন্যায় ভেঙে যাওয়া ঘর নির্মাণেও সহযোগিতা চান স্থানীয়রা।
বুড়িচংয়ে বন্যার পানি তিন থেকে চার ফুট কমায় অনেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। তবে মনোহরগঞ্জে আশ্রয়কেন্দ্রে না আসা পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর এবং কোথাও গলাপানির নিচে তলিয়ে রয়েছে গ্রামের পর গ্রাম।
পানি কমলেও স্বস্তিতে নেই কুমিল্লার বন্যাকবলিত বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া, লাকসাম মনোহরগঞ্জে ও চৌদ্দগ্রামসহ পাঁচ উপজেলা, দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
বন্যার পানি দীর্ঘ সময় ধরে লোকালয়ে থাকায় বিশুদ্ধ পানি এবং নিরাপদ স্যানিটেশনের অভাবে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। সুপেয় পানির অভাব, রান্নাবান্না ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বন্যাদুর্গত বাসিন্দারা।

স্বাস্থ্যবিভাগ বলছে, বন্যা কবলিত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নানা পানিবাহিত রোগ দেখা দিচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং স্পিডবোট-নৌকা থেকে সেবা দেয়ার চেষ্টা চলছে। কুমিল্লা জেলায় মোট ২৭০টি টিম কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়নে চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
কুমিল্লার ১৪টি উপজেলার ১২৫টি ইউনিয়নের গ্রামে কোথাও কোমর পানি, কোথাও হাঁটু পানি। জেলা প্রশাসন বলছে, জেলায় বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২৬ হাজার। এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে আছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ।
গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসতে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আট হাজার কিলোমিটার রাস্তা
চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত দুই