যখন আমরা একা থাকি তখন আমরা ব্যক্তি, যখন আমরা সবাই মিলি তখন আমরা শক্তি উল্লেখ করে ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, আমাদের এই ইউনিটি, আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে আগামীর ইসলামের জন্য কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ উদিত হবার পর আমরা ইউনাইটেড, আমরা উচ্ছ্বসিত। তোমরা একত্রিত হয়ে দেখিয়ে দিয়েছ কীভাবে জালিমদের শায়েস্তা করতে হয়। চোখের ইশারায় কী তাদের কানেক্টিভিটি, কী তাদের বোঝাপড়া। ১৬-১৭ বছরে যেটা করা যায় নাই অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে তাদের ইউনিটি গোটা বাংলাদেশকে উজ্জীবিত করেছে। এই উচ্ছ্বাস, এই ইউনিটি আমাদের বজায় রাখতে হবে। এজন্য আগামীর বাংলাদেশ হবে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।
শনিবার বিকেল ৩টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের মহারাজপুর ইউনিয়নের ঘোড়া স্ট্যান্ড সংলগ্ন লালাপাড়া মাঠে জাবালুন নুর ফাউন্ডেশনের আয়োজিত তাফসির মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, আমরা এমন এক রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই, যেখানে কেউ কাউকে জুলুম করার সাহস দেখাবে না। নতুন করে আর কেউ জালিম হবে না। নতুন করে ফ্যাসিস্টরা আর দুঃসাহস দেখাতে পারবে না। নতুন ভোরের বাংলাদেশে এগুলোর পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না।

এসময় কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একসাথে দেশ গড়ার কাজে ঐক্যবদ্ধ হতে চাই, এটা আবার অনেকের ভালো লাগে না। আমাদের সুখ অনেকের ভালো লাগে না। নানামুখী ষড়যন্ত্র। এমন এক দেশের পাশে আমরা প্রতিবেশী হয়ে আসছি। আমাদের অনেক কিছু বুঝেশুনে স্টেপ ফেলতে হয়। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি তাহলে কেউ আমাদের কিছু করতে পারবে না
তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে উন্নতমানের রিসার্চ হোক। যেগুলো আমরা অন্যান্য দেশে দেখি, যে ছাত্রের হাতে কলম লেগেছে, সে হাতে অস্ত্রের স্পর্শ না লাগুক। আমরা নতুন বাংলাদেশে বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে এগোতে চাই। এক রাজনৈতিক দল অন্য রাজনৈতিক দলকে সম্মান করবে, শ্রদ্ধা করবে। এমন নেতা আমরা চাই, যে নেতা অসুস্থ হলে আমরা সারাদেশের মানুষ জায়নামাজ বিছিয়ে মোনাজাতে চোখের পানি ছেড়ে তার জন্য দোয়া করব।
নতুন ভোরের বাংলাদেশে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিচ্ছিন্ন থাকলে হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাফসির মাহফিলে জাবালুন নুর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবু জার গিফারীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল।
এছাড়াও প্রথম অধিবেশনে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন তালুকদার ও বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরিনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. নুরুল আমিন।
এদিন সকাল থেকেই ওই এলাকার সবগুলো মাঠ ভরে যায়। সোনামসজিদ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে মুসুল্লীদের চাপে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক মুসুল্লিকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে মাঠে পৌঁছাতে হয়। বন্ধ হয়ে যায় বন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী যান চলাচল।
আয়োজকদের দাবি, যেহেতু এ মাহফিলটি রাজশাহী বিভাগীয় মাহফিল তাই রাজশাহী ছাড়াও পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, সওগাসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে মাহফিলে ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ওয়াজ মাহফিল বলেও দাবি করেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ড. মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ। যানজট নিরসনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এবং জননিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত আছে।
স্থানীয় সরকারের পরেই যৌক্তিক সময়ে জাতীয় নির্বাচন দিন: জামায়াত আমির