হাসপাতালের নীরব করিডোর আর সাদা দেয়ালের মাঝে রচিত হলো অনন্য এক মানবিকতার গল্প। একদিকে সন্তানের জীবন বাঁচাতে এক গর্ভধারিণী মায়ের নিজের কিডনি দানের মতো সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, অন্যদিকে একজন জনপ্রতিনিধির নিঃস্বার্থ আর্থিক ও মানসিক সহায়তা- এই দুইয়ের মেলবন্ধনে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার যুবক কৃষ্ণ হাজং।
নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার পর পুনর্জন্মের নেপথ্য নায়কদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কৃষ্ণের পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সদ্য সুস্থ হয়ে ওঠা কৃষ্ণ হাজং (৩৪), তার মা চারুবালা হাজং (৫৮) এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন কৃষ্ণ হাজং।
দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণ হাজং আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমাদের এতো সামর্থ্য ছিল না যে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাব। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যারের আর্থিক সাহায্য, তত্ত্বাবধান এবং মায়ের দেওয়া কিডনির কারণে আমি আজ নতুন জীবন পেয়েছি। স্যারের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা চারুবালা হাজং বলেন, স্যার (ব্যারিস্টার কায়সার কামাল) যদি আমাদের পাশে এসে না দাঁড়াতেন, তবে আমি আমার ছেলেকে কোনোভাবেই বাঁচাতে পারতাম না। চিকিৎসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব খরচ উনি দিয়েছেন। উনাকে দেওয়ার মতো আমার কাছে কিছু নেই, শুধু দুই হাত তুলে আজীবন উনার জন্য আশীর্বাদ আর দোয়া করি।
জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বিজয়পুর এলাকার শচীন্দ্র হাজংয়ের ছেলে কৃষ্ণ হাজং ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাবা, মা, স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে ছিল তার অভাবের সংসার। হঠাৎ করেই এক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ অকেজো।
প্রথমে ময়মনসিংহ এবং পরে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে কৃষ্ণের পরিবারটি একপর্যায়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। অর্থাভাবে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে না পেরে গত বছরের মে মাসের শেষদিকে একপ্রকার মৃত্যুর প্রহর গুনতে গুনতে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।
অসহায় কৃষ্ণের নিভু নিভু জীবনের করুণ গল্প জানতে পারেন নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে অসহায় এই মানুষটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে গত বছরের ১৮ জুন থেকে ঢাকার পিজি হাসপাতাল কৃষ্ণের নতুন করে ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসা শুরু হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, কৃষ্ণকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। সন্তানের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারেননি মা চারুবালা হাজং। নিজের জীবনের ঝুঁকি তুচ্ছ করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজের একটি কিডনি সন্তানকে দান করবেন।
টানা আট মাসব্যাপী বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চলতি বছরের ২ মার্চ পিজি হাসপাতালে কৃষ্ণের শরীরে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন ও সার্বক্ষণিক তদারকি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত