পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার লোহালিয়া নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবাহী একটি ট্রলার ডুবে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) ভোর তিনটার দিকে উপজেলার বামনিকাঠি লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবেস্টিন গ্রামের আলী ফকিরের ছেলে মো. নাসির ফকির (৩৬) এবং নলুয়া গ্রামের আজাদ হাওলাদারের ছেলে রেজাউল হাওলাদার (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-পটুয়াখালী রুটের ডাবল ডেকার যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমভি আওলাদ-৭’-এর সঙ্গে তরমুজবাহী ট্রলারটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পরপরই প্রায় ৪০০ তরমুজসহ ট্রলারটি নদীতে তলিয়ে যায়। ট্রলারটিতে মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন।
দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের কেবিনে তিনজন অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে একজন কোনোমতে বের হতে সক্ষম হলেও বাকি দুইজন ভেতরে আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়ে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন, তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়েই আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখান থেকে নিখোঁজ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে নদী এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে লঞ্চ-ট্রলার সংঘর্ষের ঘটনায় আওলাদ-৭ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চটির রুট পারমিট স্থগিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি বণিক বিষয়টি জানান, পটুয়াখালীতে আসার পথে আওলাদ-৭ লঞ্চটি তরমুজবাহী একটি ট্রলারের সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়ায়। বিষয়টি ঢাকা হেড অফিসে জানানো হলে কর্তৃপক্ষ লঞ্চটির রুট পারমিট সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
তিনি বলেন, বর্তমানে লঞ্চটির চলাচলের অনুমতি নেই। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এটি রুটে চলাচল করতে পারবে না। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে তাদের অন্য লঞ্চে বুকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
