কক্সবাজারের রামুতে কালু বড়ুয়া নামে এক বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক ও পুলিশের দাবির সঙ্গে পরিবারের তথ্যে অমিল পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এই খুন, তবে নিহতের পরিবারের দাবি—ঘাতকের সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা ছিলো না। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ঘাতকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তির নাম বাবু বড়ুয়া ওরফে টাম্বুকে (৩৯)। তিনিও ওই এলাকার বাসিন্দা।
নিহতের পুত্রবধূ সুমা বড়ুয়া জানান, প্রতিদিনের মতো ভোরে পূজার ফুল তুলতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বৃদ্ধ কালু বড়ুয়া। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই মেলে তার গলাকাটা নিথর দেহ।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে নিহতের পরিবার এবং পুলিশের দেওয়া তথ্যে রহস্য তৈরি হয়েছে। নিহতের পুত্রবধূ সুমা বড়ুয়া জানান, ঘাতক টাম্বুর সঙ্গে তাদের কোনো পূর্বশত্রুতা ছিলো না। এমনকি কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।
তবে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত টাম্বুকে আটকের পর সে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিলো। ভোরে ফুল তুলতে গেলে মদ্যপ অবস্থায় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সে দা দিয়ে বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যা করে।
অপরদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ এপ্রিলের উৎসব উপলক্ষে এলাকায় অনেকেই মদ্যপান করে আনন্দ-স্ফূর্তি করছিলেন। ঘাতক টাম্বুও সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
এদিকে, এই ঘটনায় স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিষাদ নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, মেরংলোয়া এলাকায় আগে কখনও এমন নৃশংস ঘটনা ঘটেনি। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় জমি নিয়ে পুরোনো ক্ষোভ থেকেই এই আক্রমণ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
