রীতিমতো হুলুস্থুল কাণ্ড! বাংলাদেশে পাওয়া গেছে সোনার খনি! চোখ কপালে উঠার মতো খবর। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মাটি খুঁড়লেই নাকি বেরিয়ে আসছে সোনা। আর তাই সোনার আশায় গেলো সাত-আট সপ্তাহ ধরে ইটভাটায় স্তূপ করা মাটি খুঁড়ে যাচ্ছেন নানা বয়সী নারী, পুরুষ আর শিশুরা। কেউ কেই নাকি সোনা খুঁজেও পেয়েছেন। আর ঘটনাস্থল ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার রাজোর গ্রাম।
সকাল থেকে রাত সোনার খোঁজে আশাপাশের গ্রামের মানুষের ঢল নেমেছে রাজোর গ্রামে রুহুল আমিনের মালিকানাধীন ‘সোনার খনি’ খ্যাত ইটভাটায়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার আশাঙ্কায় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সেখানে খুন্তি, কোদাল, বাশিলা ইত্যাদি দিয়ে মাটি খুঁড়া-খুঁড়ি যেভাবে শুরু হয়েছিলো, তাতে এছাড়া অন্য কোন উপায়ও ছিলো না।

এবার একটু পেছন ফেরা যাক। গত এক মাস ধরে ওই ইটভাটায় কাঁচা ইট তৈরির জন্য এলাকার বিভিন্ন পুকুর থেকে মাটি কেটে এনে তিনটি মাটির স্তূপ করা হয়। ওই মাটির স্তূপগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সোনার মোহর, স্বর্ণের দুল, আংটিসহ বিভিন্ন সোনার তৈরি জিনিস পাওয়া যায়।
এতে করে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী, পুরুষ, শিশু সোনা পাওয়ার আশায় রাত দিন মাটি খনন করতে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে খবরটি আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। সবার নজরে চলে যায় ঠাকুরগাঁওয়ের সেই গ্রামে।

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মাটি খুঁড়ে সোনার খোঁজ করতে থাকলে, যে কোনো সময়ই ঘটনাস্থলে মারামারি, খুন, জখমসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা সেই ইটভাটা থেকে শনিবার রাত চারটা থেকে সকাল পর্যন্ত সেখান থেকে সব মানুষকে থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ প্রশাসন।
সোনার খনির নেই ইটভাটাটি এখন জনমানবশূন্য। সরিয়ে ফেলা হচ্ছে মাটির স্তূপ। স্থানীয় লোকজন বলেন, ইটের কাঁচামাল হিসেবে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ভাটায় স্তূপ করে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সেই মাটি কাটতে গিয়ে শ্রমিকেরা সোনা পেয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে কোদাল, খুনতি, শাবল, বসিলা নিয়ে সেখানে ভিড় করতে শুরু করেন গ্রামবাসী।

সামাজিক মাধ্যমে খবর পেয়ে আশপাশের এলাকা এমনকি দূরদূরান্ত থেকেও লোকজন এসে সেখানে ভিড় করছেন। দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা নামলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। টর্চলাইট, চার্জার লাইট আর হারিকেন নিয়ে চলে আসে ইটভাটায়। রাতের আঁধারে ভাটার মাটির ঢিবি জোনাকি পোকার মতো জ্বলজ্বল করে। সোনার খোঁজে তাই সেখানে কর্মযজ্ঞ চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, ওই ভাটার মাটির ঢিবি খুঁড়তে এসে কেউ কেউ সোনা পাচ্ছেন। তবে কে কে সোনা পেয়েছেন, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি। সোনার খোঁজে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে বুক পর্যন্ত গর্ত করে ফেলেও কাঙ্খিত বস্তুটি পায়নি। মাটি খোড়ার কথা স্বীকার করলেও, সোনা পাওয়ার কথা বলছে না। তবে, যারা খুঁড়েই যাচ্ছিলেন, তাদের প্রশ্ন- সোনা না পেয়ে থাকলে, মানুষজন আসছে কেন?
প্লাবনের তোড়ে বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি