শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করেছে জবি শিক্ষক সমিতি।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে কাকরাইলে চলমান আন্দোলনে এ ঘোষণা দেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন।
ড. রইস উদ্দিন বলেন, আমাদের তিন দফা দাবির সঙ্গে আরও একটি দাবি যোগ করেছি। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া হামলার বিচার আমাদেরকে দিতে হবে। এসব দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা ক্যাম্পাসে ফিরে যাবো না। সে অর্থে ক্যাম্পাস শাটডাউন থাকবে।
এর আগে, বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ‘লং মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনা অভিমুখে যাত্রা করে কয়েকশত জাবি শিক্ষার্থী। কাকরাইল মোড়ে পৌঁছালে সেখানে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ বেশ জন আহত হন।
এরপর রাত ১০টার দিকে আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে ঘটনাস্থলে যান উপদেষ্টা মাহফুজ। সেখানে তার ওপর বোতল ছুড়ে মারে এক ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী।
তবে প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে দ্রুতই প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক করবে। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির বিষয়ে সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।
জবি শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টার আশ্বাসেও আন্দোলন থামায়নি।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো—
১. আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জবির ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে হবে।
২. জবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করেই অনুমোদন করতে হবে।
৩. জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
এছাড়াও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার যথাযথ বিচার ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাম্য হত্যায় ঢাবিতে শোক
সাম্য হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে ছাত্রদল