দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা দিন দিন আরও আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে নতুন করে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জনই ঢাকা বিভাগের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৩ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১,২৬৩ জনের মধ্যে ১ হাজার ১৫৮ জনই মারা গেছেন হামের প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে। আর বাকি ১০৫ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫ জন এবং বরিশাল বিভাগে একজন মারা গেছেন।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত ৫১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে সিলেটে ২০৩ জন, চট্টগ্রামে ১১২, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৯, বরিশালে ৬৯, খুলনায় ৫৭ এবং রংপুর বিভাগে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সরকারের হাম বিষয়ক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন করে ১ হাজার ৩১৮ জনের দেহে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৮২ জনের শরীরে সরাসরি হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৬০ জন রোগী। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৮৯ জন ঢাকা বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৩৬ জন, সিলেটে ১৪০, বরিশালে ১৩২, ময়মনসিংহে ১০০, খুলনায় ৯৪, রংপুরে ৩৫ এবং রাজশাহী বিভাগে ৩৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ২ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ জন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সব মিলিয়ে গত সাড়ে সাত মাসে দেশে ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষের দেহে হাম ও হামের অনুরূপ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছেন।
