কোটা আন্দোলনকে ঘিরে বাংলাদেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি ‘শিগগিরই স্বাভাবিক’ হবে বলে আশা করছে প্রতিবেশি দেশ ভারত।
বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা বলেন।
টেলিগ্রাফের জানিয়েছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর বলেন, বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুবই দৃঢ়, উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে কোটা আন্দোলন নিয়ে একাদিক প্রশ্ন করা হয়। সেসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা।
প্রায় সব প্রশ্নের জবাবেই রণধীর বলেন, বাংলাদেশের ঘটনা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয় শিক্ষার্থী ও অন্যদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সাহায্য ও সহযোগিতার উল্লেখ করে মুখপাত্র জানান, এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ৭০০ জনের বেশি ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।
তিনি জানান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য ভারতীয় হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশন ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু রেখেছে।
তিনি বলেন, সে দেশের ঘটনাবলির দিকে ভারত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখেছে। তবে সেখানে যা চলছে, তা সম্পূর্ণভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের আশা, খুব শিগগির বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
রণধীর জানান, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কূটনৈতিক মাধ্যমে সেই প্রতিবাদ ভারতের কাছে পৌঁছেছে। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত যেসব প্রতিবেদন বেরিয়েছে, সেগুলোও ঠিক বলে জানান তিনি।
কোটা আন্দোলন ঘিরে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালানো হয রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। সরকারি স্থাপনায় আগুন, ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যাও অনেক।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, বাংলাদেশ থেকে কেউ এ অবস্থায় তার রাজ্যে গেলে তিনি ‘আশ্রয় দেবেন’। এই বক্তব্যের পর কেন্দ্র সরকারের মন্ত্রী পর্যায় থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। গণমাধ্যমেও অনেকে মমতার এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।
