বাগেরহাট জেলায় ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত স্থাপনা হযরত খানজাহান (র:)-এর বসতভিটায় দুই মাস ধরে খনন করে প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগের বিভিন্ন স্থাপত্য কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ এবং বিভিন্ন তৈজসপত্র উদ্ধার করেছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। এসব প্রত্নবস্তু নিয়েই তার বসতভিটাতে শুরু হয়েছে পাঁচদিনের প্রদর্শনী।
শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
আগামী মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, খনন করে ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ বছর আগের বেশ কিছু স্থাপত্য এবং নির্দশন পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত প্রত্নবস্তু নিয়ে গবেষণা চলছে।

খানজাহানের বসতভিটায় খনন করে এইরমধ্যে যে সব নিদর্শন পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন কালপর্বের ইটের দেওয়াল, চুন-সুরকির মেঝে, রাস্তা, পানি নির্গমন নালা, ব্রিক সলিং এবং পাতওয়ে। এছাড়া আরও রয়েছে, পোড়ামাটির হাড়ি, ঘট, থালা, বাটি, পিরিচ, মাটির কলসের ভগ্নাংশ, তৈলপ্রদীপ, অংলকৃত ইট, টালি, পোড়ামাটির বলসহ ব্যবহারিক বিভিন্ন তৈজসপত্র।
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মজসিদ থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সুন্দরঘোনা গ্রামে খানজাহানের বসতভিটায় ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর খনন কাজ শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে এই খনন কাজ চলবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

২০০১ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ধারাবাহিকভাবে প্রায় ১০ একর আয়াতনের এই বসতভিটায খনন করছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, খনন কাজ শেষ হলে খানজাহান (র:) এর বাসভবন সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে। মাটির নিচে প্রাপ্ত স্থাপত্যশৈল গবেষণার মধ্যে দিয়ে পঞ্চদশ শতকের তথ্য সমৃদ্ধ হবে এবং প্রত্নতত্ব ইতিহাসে নব অধ্যায়ের সুচনা হবে।
আরও পড়ুন: করোনা: বিশ্বে একদিনে কমেছে মৃত্যু-শনাক্ত
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, খানজাহানের বসতবাড়ির ১০ একর জমির পুরোটাই খনন করা হবে। খনন করে প্রাপ্ত নির্দশনগুলো প্রদর্শন করা হবে খানজাহানের ইতিহাস জানার জন্য।
খানজাহান (র:) দক্ষিণবঙ্গের এক অবিস্মরণীয় নাম। ইসলাম প্রচারক এবং এই অঞ্চলে আবাদকারি হিসেবে তিনি সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত। প্রবাদ আছে হয়রত পীর খানজাহান (র:) পারস্য দেশীয় একজন ধনবান মুসলমান ছিলেন। ৬০ হাজার সৈন্য ও ১১ জন আউলিয়া নিয়ে তিনি এই দেশে আগমন করেন। খলিফাতাবাদ তথা আজকের এই বাগেরহাটে তার আগমন ঘটে ১৪২৯ সালে। মাজারে পাথরে খোদায় করে তার মৃত্যুর তারিখ লেখা রয়েছে ১৪৫৯ সাল।
একাত্তর/আরবিএস
