সাবেক রাষ্ট্রপতি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
২০১৩ সালের ২০ মার্চ সিংগাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্হায় মারা যান তিনি।
দিনব্যপী কোরান খতম, মিলাদ মাহফিল, দোয়া, আলোচনা সভা এবং কাংগালী ভোজের মাধ্যমে দিনটি পালন করবে ভৈরব উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলো।
কিশোরগঞ জেলার ভৈরবের ভৈরবপুর হাজী বলাকী মোল্লা বাড়ীর ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ মেহের আলীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন জিল্লুর রহমান।
তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ২০০৯ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি নবম জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এম.এ. ও এল.এল.বি. ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রীয় হয়ে ওঠেন।
১৯৪৬ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সিলেটে গণভোটের কাজ করার সময় তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্যে আসেন।

১৯৬২ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, '৬৬-র ৬ দফা আন্দোলন, '৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান সহ প্রতিটি গণআন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে থেকে তিনি অংশগ্রহণ করেন।
জিল্লুর রহমান রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম প্রধান সংগঠক। তিনি মুজিবনগর সরকার কর্তৃক পরিচালিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিচালনা এবং জয় বাংলা পত্রিকার প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সেই সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে ২০ বছর কারাদন্ডের সাজা দেয় ও সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনসহ '৭৩, '৮৬, '৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব-কুলিয়ারচ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জিল্লুর রহমান।
এর আগে ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
১৯৭৫ সালে তিনি বাকশালের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৫৮ সালের ২৭ জুন বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে নবম শ্রেনী পড়ুয়া প্রিন্সিপাল জালাল উদ্দিনের মেয়ে জেবুন্নাহার আইভিকে বিয়ে করেন, পরে যার নাম হয় আইভি রহমান।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মারা যান মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভানেত্রী আইভি রহমান।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি আইন জারির পর ওই বছরের জুলাই মাসের এক রাতে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলে জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

জিল্লুর রহমান ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের পর ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সেটা তিনি পেরেছিলেন।
দীর্ঘ ১১ মাস শেখ হাসিনার জেলজীবন এবং চিকিৎসার জন্য আরও প্রায় ছয় মাস দেশের বাইরে অবস্থানকালে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে জিল্লুর রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চার বছর কারাগারে ছিলেন জিল্লুর রহমান। জেল থেকে বেরিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে জিল্লুর রহমান ও আইভি রহমান দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
তার ছেলে নাজমুল হাসান পাপন জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি বর্তমান সভাপতি।
একাত্তর/এসজে
