সপ্তাহের ব্যবধানে আরও একটি বিতর্কিত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনা এসেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে আবারও বেফাঁস মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোমেন বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।
তাঁর এমন বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। এ অবস্থায় শুক্রবার টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে চট্টগ্রামে দেয়া বক্তব্যের একটি ব্যাখ্যা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি বলেন, কালকে (বৃহস্পতিবার) আমি যে জিনিসটা বলেছি সেটি হলো, শেখ হাসিনা আছেন বলেই আমাদের দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। উনি আছেন বলেই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে।
আমি বলেছি, বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুললে সবার মঙ্গল হয়। এদেশে যত নাগরিক আছেন, তিনি যে ধর্মেরই হোন তার সমান অধিকার আছে। কেননা তিনি আমাদের বাংলাদেশের নাগরিক।
আমি বলেছিলাম, শেখ হাসিনা যদি সরকারে থাকেন, তাহলে স্থিতিশীলতা থাকে। আর স্থিতিশীলতা থাকলেই উন্নয়ন হয়। আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কেন।
উনি বললেন, শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স টু টেররিজম ঘোষণা এবং দ্বিতীয়ত উনি বলেছেন, বাংলাদেশ ক্যান নট বি হাব ফর টেরোরিস্ট (বাংলাদেশ সন্ত্রাসীদের আঁতুড়ঘর হবে না)।
তিনি বলেন, আসাম, মেঘালয়ের জেলায়গুলোতে আর সন্ত্রাসী তৎপরতা নাই। সন্ত্রাসী তৎপরতা না থাকায় তাদের রাজ্যে উন্নয়ন হচ্ছে। উনি বললেন, আমার এখানে বহু হাসপাতাল, বহু ইনভেস্টমেন্ট আসছে। যেহেতু আমাদের এখানে আসামে কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নাই।
আমি ভারত সরকারকে বললাম, আপনার একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন শেখ হাসিনা থাকায় স্থিতিশীলতা এসেছে। স্থিতিশীল হওয়া আমার দেশে মঙ্গল হচ্ছে, আপনার দেশেরও মঙ্গল হচ্ছে। আপনার দেশেও আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আসছি। ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হচ্ছে।
সুতরাং স্থিতিশীল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা খুব দরকার। তাতে আপনার দেশেরও মঙ্গল হবে, আমাদের দেশেরও মঙ্গল হবে। আমরা চাই, এই অত্র এলাকায় স্থিতিশীলতা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলতা চাই না। এবং সেটা যদি আমরা করতে পারি তাহলে এই সোনালি অধ্যায় যথার্থ হবে।
আরও পড়ুন: পররাষ্ট্রমন্ত্র্রীর বক্তব্য ব্যক্তিগত অভিমত: কাদের
তার পরে আমি বলেছি, এই কিছু কিছু লোক সময় সময় অনেকগুলো উসকানিমূলক কথা বলে। আপনার দেশেও কিছু দুষ্টু লোক আছে, আমার দেশেও কিছু দুষ্টু লোক আছে। তারা তিলকে তাল করে। আপনার সরকারের একটা দায়িত্ব এবং আমার সরকারের দায়িত্ব আছে তিলকে তাল করার সুযোগ সৃষ্টি না করে দেয়া। আমরা যদি এটা করি তাহলে আমাদের সাম্প্রতিক সম্প্রীতি থাকবে। আমাদের মধ্যে কোনো অস্থিরতা থাকবে না।
আমি বলেছি, আমরা বদ্ধপরিকর, আমরা শেখ হাসিনাকে চাই। তার স্থিতিশীলতা থাকুক। এ ব্যাপারে আপনারা আমাদের সাহায্য করলে খুব খুশি হবো।
একাত্তর/এসি
