দ্রুত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি করতে ভারতের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।
যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে শুক্রবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশে ফিরে রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
জাহিদ ফারুক বলেন, বৈঠকে তিস্তা ছাড়াও কুশিয়ারা নদীর পানি নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এবারের বৈঠকে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ যে পানি পায়, সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য একটি সমীক্ষা করার বিষয়ে একমত হয়েছে ঢাকা-নয়াদিল্লি।
বৈঠকে গঙ্গা, তিস্তা, মনু, মুহুরি, খোয়াই, গুমতি, ধরলা, দুধকুমার ও কুশিয়ারা নদীর পানি নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয় আরও কয়েকটি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জন্য নদীর তথ্য-উপাত্ত আদান-প্রদান করা হবে।
২৩ আগস্ট পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ে এবং ২৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে জেআরসির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুটি বৈঠকেই তিস্তাসহ গঙ্গা ও কুশিয়ারার পানি নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জাহিদ বলেন, গঙ্গার পানির সবচেয়ে ভালো ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে কোনো কথা বলিনি।
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি দ্রুত করতে আমরা ভারতীয় পক্ষকে বলেছি। তারা চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তিস্তার ব্যাপারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।
কুশিয়ারা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুশিয়ারা থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি বাংলাদেশ উত্তোলন করতে পারবে। এ বিষয়ে চুক্তি প্রধানমন্ত্রীর সফরে সই হতে পারে।
আরও পড়ুন: বেশি লাভে চাল বিক্রি করতে অভিনব প্রতারণা
ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং সিখাওয়াতকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়ে জাহিদ ফারুক বলেন, মার্চ কিংবা এপ্রিল বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, তখন জেআরসি পরবর্তী বৈঠক করবে। হেলিকপ্টারে করে পুরো বাংলাদেশ দেখাব, কীভাবে আমাদের জীবনের সঙ্গে পানির সম্পর্ক।
একাত্তর/এসজে
