কক্সবাজারের তমব্রু সীমান্তে বাংলাদেশের ভেতরে মিয়ানমারের মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে কঠোর বার্তাও দেয়া হয়েছে।
ঢাকায় থাকা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে সোমবার (২৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে তীব্র নিন্দা ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বিকেলে পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে আমরা ডেকে পাঠিয়েছি। একটি নোট ভার্বালের মাধ্যমে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের নাইক্ষ্যাংছড়ির ঘুমধুম এলাকার তমব্রু সীমান্তে রোববার জনবসতি এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা তিনটি মর্টার সেল আছড়ে পড়ে।
তবে একটিও বিস্ফোরিত না হওয়ায় কোন ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু মর্টার তিনটির বিস্ফোরণ হলে ব্যাপক হতাহতের শঙ্কা ছিলো।
ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ। রোববার সন্ধ্যার সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বিষয়টিকে আক্রমণ হিসেবে দেখছে না, দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।
তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনায় আগেও মিয়ানমারকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এবারও কঠোর বার্তা দেওয়া হবে।
পরের দিনই ঢাকায় থাকা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তাকে জানিয়ে দেয়া হয় কড়া বার্তা। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে কঠোর প্রতিবাদ।
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে আমরা ডেকে পাঠিয়েছি। একটি নোট ভার্বালের মাধ্যমে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের দিকে দুইবার মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই মিয়ানমারের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
তমব্রু সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ৬২১টি পরিবারের ৪ হাজার ২০০ রোহিঙ্গা বাস করে। স্থানীয়রা জানান গেলো দু’সপ্তাহ ধরেই মিয়ানমারের ভেতর থেকে দিনরাত গোলাগুলির শব্দ পাচ্ছেন তারা।
আরও পড়ুন: জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত দুই একদিনের মধ্যে
এদিকে, গত জুন-জুলাই মাস থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব কায়াহ এবং কাইন ও উত্তর-পশ্চিম চীন রাজ্যে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে রাখাইনে আরাকান আর্মির সঙ্গে তীব্র যুদ্ধ চলছে। সেখানে বাকি থাকা রোহিঙ্গাদেরও এ যুদ্ধের মাঝে টেনে আনা হচ্ছে।
একাত্তর/আরএ
