চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে শতভাগ চাল সংগ্রহ হয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দেশে চালের কোনো অভাব নেই। সরকারি গুদামে প্রায় ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৫৩১ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। ইতিমধ্যে চালের বাজার কমতে শুরু করেছে। ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব চালু হলে চালের দাম আরও কমবে। সামনে কৃষক যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পায় সেজন্য সরকার কাজ করছে।
মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় নওগাঁয় সার্কিট হাউসে সারাদেশে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং টিসিবির কার্ড হোল্ডারদের মধ্যে চাল ও আটা বিতরণ উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ মূলত আমদানি নির্ভর উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে তেলের দাম বেড়েছে। জাহাজের ভাড়া বেড়েছে পাঁচ থেকে সাত গুন। কিন্তু তেলের দাম যে পরিমাণ বেড়েছে, দ্রব্যমূল্য তার চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছেন অসৎ ব্যবসায়ীরা। এটা নিয়ন্ত্রণে আমরা বাজার মনিটরিং করছি। যেখানে মজুদ পাচ্ছি জরিমানা করছি। একই সঙ্গে সরকার ওএমএস ও টিসিবি দিয়ে কম দামে পণ্য দেয়ার চেষ্টা করছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আশা করি আমাদের অর্ডার দেওয়া সব চাল আসবে। আমদানি শুল্ক যখন ২৫ শতাংশ ছিল তখন কিন্তু ৫০ মেট্রিক টন চাল দেশে এসেছে। অর্ডার দেয়া হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, ভারত থেকে খরচ দিয়ে আমাদের চাল থেকে প্রতি কেজি দুই টাকা বেশি পড়ে যায়। এর জন্য আনা হয়নি। আশা করি আরও ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে দেওয়ায় কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা কম আসবে।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে এক সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে ওএমএস এর মাধ্যমে ২৩৬৩ টি কেন্দ্রে দুই টন ও প্রতিটি ট্রাক সেলে সাড়ে তিন মেট্রিক টন করে চাল বিক্রি শুরু করা হবে।
সারাদেশে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এই কার্যক্রম চলবে তিন মাস।
মন্ত্রী বলেন, খাদ্য বান্ধবের ক্ষেত্রে ডিভাইস তৈরি করে স্মার্ট কার্ড তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। পুরোপুরি কাজ শেষ হয়ে গেলে স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে।
আরও পড়ুন: উসকানির ছয় ভিডিও সরাতে ফেসবুক ও ইউটিউবকে নির্দেশ
তিনি জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ যেন একাধিকবার চাল নিতে না পারে এ জন্য টিসিবির কার্ডধারীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পাঁচ কেজি করে মাসে দুই বার দেওয়া হবে। এছাড়াও কার্ডধারী ছাড়া যারা চাল নিতে যাবে তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। সেটার ওপর তারিখ ও সিল দেয়া থাকবে। যাতে কেউ বার বার চাল নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে না পারে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সদর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন, খাদ্যমন্ত্রীর একান্ত (উপসচিব) সচিব মো. শহিদুজ্জামান, নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা চাল কল মালিক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর কবিরসহ খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
একাত্তর/এসি
