শান্তিতে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের নজির গড়লো দেশ: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২২, ০১:৫৬ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লির (নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন) উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বুধবার (১৯ অক্টোবর) গণভবন থেকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কাজের উদ্বোধন করেন। 

উদ্বোধন কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শান্তির জন্য পারমানবিক শক্তি ব্যবহারের নজির তৈরি করেছে। এই বিদ্যুৎ হবে পরিবেশ বান্ধব। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পরবেনা।

এ সময় সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। উত্তরবঙ্গের মানুষ এর সুবিধা পাবে।  

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু একটি বিদ্যুতকেন্দ্রই নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কথা মনে রাখতে হবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার শক্তি ও এর ব্যবহারটা শান্তির জন্য, উন্নয়নের জন্য। বিশ্বের বুকে সেই দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ আজ স্থাপন করেছে। আমাদের দেশের সব রকম নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আমরা এটা করে যাচ্ছি। এই প্রকল্পের জন্য নদী শাসন থেকে শুরু করে সব রকম যন্ত্রপাতি নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার কাজ অত্যন্ত সূচারুরূপে সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌জাতির পিতা আমাদের এই অঞ্চলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ সালে এখানে দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। একটা পশ্চিম পাকিস্তানে, একটা আমাদের দেশে। জমিও ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলো আমাদের অঞ্চলে আর নির্মাণ করেনি পাকিস্তানি শাসকরা। বরং দুটিই তারা নিজ দেশে নিয়ে যায়। ফলে আমরা পূর্ব বাংলার মানুষ বঞ্চিত হই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা দেশের টাকা দিয়ে সমস্ত গ্যাস ফিল্ড ক্রয় করেন। ওই সময় আমাদের যখন দুরবস্থা, সেই সময়ও তিনি ভোলেননি যে এই সম্পদ বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ। আমাদের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদসহ সব সম্পদ স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য নিশ্চিত করে দিয়ে যান। রাষ্ট্রের মালিকানা নিশ্চিত করেন। সংবিধানের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষকে বিদ্যুৎ দেওয়াও জীবনমান উন্নত করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেন। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেও আলোচনাও করেছেন। কিন্তু তিনি তা শেষ করে যেতে পারেননি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ নিউক্লিয়ার পাওয়ার অ্যাকশন প্ল্যান্ট আমরা প্রণয়ন করি। এ বিষয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী সাদেক সাহেবের নেতৃত্বে আমি একটি কমিটিও তৈরি করে দিয়েছিলাম। কমিটি ভিয়েনাসহ অনেক জায়গা যায়। আমরা অনেক কাজ এগিয়ে নিয়ে আসি, নীতিমালা তৈরি করি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে জমি দেখে যায়। এরপর ২০০১ সালে ক্ষমতায় না আসতে পারায় এ কাজ আর এগোয়নি। বিএনপি-জামায়াত জোটও এসব বিষয়ে কোনও কাজ করেনি।

কোভিড পরিস্থিতির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোভিড-১৯-এ বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা ও সমস্ত কাজ স্থবির ছিল। কিন্তু রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা কাজ বন্ধ করেননি। এ কাজের সঙ্গে জড়িত আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়াররা, নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সবাই যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন, এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জিয়াউল হাসান, রূপপুর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর। ঈশ্বরদীর জনপ্রতিনিধি, পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কেন্দ্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রোসাটম ও এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের কর্মকর্তারা।

রূপপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় রয়েছে রাশিয়া। প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের উদ্বোধন

এর আগে ২০২১ সালের ১০ অক্টোবর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের চুল্লি স্থাপন কাজের উদ্বোধন হয়। এখন পর্যন্ত যার অগ্রগতি হয়েছে ৭০ শতাংশ।

সরকার বলছে, ২০২৩ সালে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।

২০১৭ সালের নভেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের মূল স্থাপনা নির্মাণের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


একাত্তর/এসি

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজ বিরোধী অপশক্তি আর যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ যাতে বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান...
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আলো ছড়ানো খেলোয়াড়দের ঘিরে বিশ্বজুড়ে সদ্য সমাপ্ত মধ্য বছরের ট্রান্সফার উইন্ডোতে রেকর্ড বাণিজ্য হয়েছে। ফুটবল সংস্থা ফিফা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক এই...
প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়া হিসাবে পরিচিত 'এল নিনো'র প্রভাব বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান হতে শুরু করায় পৃথিবী চরম আবহাওয়ার এক বিপজ্জনক অঞ্চলে প্রবেশ করেছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব...
গভীর ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা থেকে শত শত কোটি ডলার সমমূল্যের স্বর্ণের রিজার্ভ যুক্তরাজ্যে সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। বুধবার ডাচ সেন্ট্রাল ব্যাংক...
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি ও জন্মাষ্টমী শুক্রবার। ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন করে মানবজাতির কল্যাণের লক্ষ্যে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর