গেল কয়েকদিন বিভিন্ন দূতাবাসে বিএনপি ভুল তথ্য সরবরাহ করছে দাবি করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছে, সত্য জানাতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে গুজব ও মিথ্যা তথ্য-সংবাদ ঠেকাতে প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও জ্ঞান নিয়ে বাংলাদেশ উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের এক আলোচনা সভা শেষে তিনি একথা বলেন।
তিনি জানান, ৭ ও ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ পূর্ববর্তী ও সমাবেশের সময় ঘটনাবলি নিয়ে এই চিঠিতে জানানো হয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তার ও তাদের জামিন দেয়া না দেয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনাও করা হয়েছে এ চিঠিতে।
মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দূতাবাসগুলোকে জানানোর কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রেপ্তারের যে বিষয়টি তাদেরকে জানিয়েছি, সেটা হলো তাদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, এটার প্রাথমিক তদন্তের জন্য তাদেরকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদে।’
এটি বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে কোনো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নেই।
ঢাকায় সমাবেশ কেন্দ্র করে বিএনপি প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে অভিযোগ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, কিছু বড় দেশ ৯ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা দেবে, এমনটা আগেই জানা ছিল। বিষয়টিকে মাথায় রেখে বিএনপি দেশে ও বিদেশে অপপ্রচার চালিয়েছে। তাই তারা ১০ ডিসেম্বরকে সমাবেশের জন্য বেছে নেয়।
তিনি বলেন, বিএনপি আশ্বাস পেয়েছিল নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আসবে। সেটাকে মিলিয়ে ওই দিন তারা উদযাপনের আমেজে বিশাল জনসভা করবে। জনগণ মনে করবে, সরকারের সঙ্গে কোনো বন্ধু নেই। এই পুরো পরিকল্পনাটা তাদের ভেস্তে গেছে।
আরও পড়ুন: আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ দূর করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
এ ধরনের চিঠি পাঠানোকে ‘স্বাভাবিক’ হিসাবে বর্ণনা করে শাহরিয়ার বলেন, ‘এটা নতুন নয়। বাংলাদেশে বা ক্যাপিটালে মেজর কিছু ঘটলে আমরা সবাইকে জানিয়ে রাখি। এটা একেবারে স্বাভাবিক কূটনৈতিক চর্চার মধ্যে পড়ে। এবং এটা অতীতেও হয়েছে।’
এর আগে আলোচনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার লিনি নিকোলাস বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে গুজব ও মিথ্যা প্রচারণা মোকাবেলা ও মত প্রকাশের অধিকারের ভারসাম্য রক্ষা সরকারের জন্য এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ।
