এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেনের শতভাগ টিকেটই বিক্রি হবে অনলাইনে। বিগত ঈদের সময়ে টিকেট কাটতে গিয়ে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি দূর করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৭ থেকে ৩০ এপ্রিলের সব টিকেট কিনতে হবে রেলসেবা অ্যাপ বা রেলের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট থেকে। আর এই বিক্রি শুরু হবে দশ দিন আগ থেকে। অর্থাৎ সাত এপ্রিল থেকেই ঈদের আগাম টিকেট কিনতে পারবেন যাত্রীরা।
জীবনের প্রয়োজনে ঢাকায় বাস করা কোটি মানুষ ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে যখন মরিয়া তখন বেশিরভাগ যাত্রীর ভরসা রেলপথ। প্রতি বছর ঈদের আগাম টিকেট কাটতে রেলস্টেশনে রাত থেকে শুরু করে দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকতে হতো যাত্রীদের।
সেই ভোগান্তি দূর করতে এবার ঈদ যাত্রার সব টিকেটই বিক্রি হবে অনলাইনে। রেলমন্ত্রী জানান, ২২ এপ্রিল ঈদ ধরে নিয়ে ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হবে ঈদের ট্রেন চলাচল। ফিরতি যাত্রা হবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। এই ১৪ দিনের সব টিকেট বিক্রি হবে শুধু অনলাইনে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, এবার ঈদের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। কমলাপুরে গিয়ে টিকিটের জন্য যাত্রীদের যেন ঘুরতে না হয় এবং তারা যেন বাসায় বসে টিকেট কাটতে পারেন সেজন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এবার যদি কোনো ভুল-ত্রুটি হয় তবে সেটি কোরবানি ঈদে সংশোধন করা হবে।
রেলমন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট দিনের আগাম টিকেট কেনা যাবে দশদিন আগেই। এবার ঈদে ঢাকা থেকে বহির্গমন ট্রেনে মোট আসন সংখ্যা হবে ২৫ হাজার ৭৭৮টি। সবকটি টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া ঢাকা ও জয়দেবপুর থেকে তিনটি ঈদ স্পেশাল ট্রেনে আরও তিন হাজার আসনের টিকেটও অনলাইনেই বিক্রি করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঈদের চার দিন আগে থেকে সাতজোড়া আর ঈদের দিন চলবে দুই জোড়া বিশেষ ট্রেন। একটি এনআইডি নিবন্ধন দিয়ে সর্বোচ্চ চারটি টিকেট কেনা যাবে। আর যাত্রার দিন ননএসি সিটের বিপরীতে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকেট বিক্রি হবে কাউন্টার থেকে।
কিন্তু যথারীতি প্রশ্ন হলো রেলওয়ের সার্ভার জটিলতা নিয়ে। সহজ ডট কম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার প্রতি মিনিটে চার লাখ টিকেট বিক্রি করতে পারবে তারা। যার বিপরীতে প্রতিদিন টিকেট আছে প্রায় ২৮ হাজার। ফলে বেশিরভাগ লগইন করা ব্যক্তিকে হতাশ হতে হয়।
অনলাইন প্রযুক্তির এই ব্যবহার সব মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান শতভাগ না হলেও সিংহভাগ মানুষের কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত।
একাত্তর/এআর
