ঈদকে কেন্দ্র করে পদ্মা সেতুতে বাইক চলাচলে অনুমতি দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার একনেকের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছু নির্দেশনা মেনে পরীক্ষামূলকভাবে ২০ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে পদ্মাসেতুতে মোটরসাইকেল চলবে।
এদিকে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এ সংক্রান্ত একটি প্রেস-বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে যেকোনো সময়ই আবারও বন্ধ হতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মোটরসাইকেল চালকদের এই সুযোগ।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নির্দেশনা গুলো হলো—
১. সেতুর টোল প্রদান করতে হবে (১০০ টাকা, ওয়ান ওয়ে)
২. সেতুর নির্দিষ্ট লেনে (বাম পাশে সার্ভিস লেন) মোটরসাইকেল চালাতে হবে
৩. কোন অবস্থাতেই নির্ধারিত লেন পরিবর্তন করা যাবে না
৪. ওভারটেকও করা যাবে না।
৫. মোটরসাইকেলের গতি সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে রেখে চালাতে হবে
৬. মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী দুজনকেই মানসম্মত হেলমেট পরিধান করতে হবে
৭. কোন অবস্থাতেই সেতুর উপর দাঁড়ানো বা ছবি তোলা যাবে না
৮. চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন মোটরসাইকেলে চড়তে পারবে
এছাড়া মোটরসাইকেল চালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সব নিয়ম মেনে চলতে হবে মোটরসাইকেল চালকদের।
বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত শর্তসমূহ প্রতিপালন করে পদ্মা সেতু ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। শৃংখলা না মানলে মোটরসাইকেল চলাচলের এ সুযোগ বাতিল করা হবে বলে প্রেস-বিঞ্জপ্তিতে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরদিন সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়। প্রথম দিনে অন্তত ৪৫ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ছিল ২৭ হাজার।
ওই দিন রাতে সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত হন। এরপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করে দেয় সেতু কর্তৃপক্ষ।
একাত্তর/এআর
