মুক্তিযুদ্ধ থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন; ৬০ বছরেরও বেশি সময় রাজনীতিতে যার সক্রিয় অংশগ্রহণ, সেই সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বই পড়ে ও লেখালেখি করে অবসর সময় কাটাবেন।
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে সোমবার সকাল ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর মাধ্যমেই ১০ বছর ৪১ দিনের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষ হয় আবদুল হামিদের।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গভবন থেকে বিদায় জানানো হয় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে। স্বাধীনতার ৫২ বছরে দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনও রাষ্ট্রপতিকে এমন আড়ম্বরপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিদায় জানানো হলো।
বিদায় পর্বে এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কিংবদন্তী এই রাজনীতিবিদ।
তিনি বলেন, অবসর জীবন কাটাবেন বই পড়ে ও লেখালেখি করে। নতুন করে আর কোন রাজনীতিতে জড়াবেন না।
আবদুল হামিদের লেখা ‘আমার জীবননীতি আমার রাজনীতি’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে এবারের একুশে বইমেলায়। বইটিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি তার শৈশব থেকে ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত জীবনালেখ্য তুলে ধরেছেন। পরের খণ্ডে বাকি জীবনের গল্প আসার কথা।
অবসরে যাওয়ার আগে গত মার্চে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি জানান, অবসরে আত্মজীবনীর দ্বিতীয় খণ্ড লেখার কাজ শেষ করবেন তিনি।
এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দেশের মানুষকে ভালোবেসে রাজনীতি করতে রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আবদুল হামিদ।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদদেরকে দেশের মানুষকে ভালোবেসে রাজনীতি করা উচিত। তাহলেই রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।’
৬০ বছরেরও বেশি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আবদুল হামিদ। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতিকালে ছাত্র রাজনীতি করা ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে তার।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ সদস্য।
সব মিলিয়ে সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চলের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
মিষ্টভাষী ও সদালাপী এই মানুষটি সংসদ উপনেতা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মতো দায়িত্ব সামলেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে।
আবদুল হামিদ বলেন, দেশের মানুষকে ভালবেসেই সারা জীবন রাজনীতি করে গেছেন।
মানুষের ভালবাসায়ও তিনি সিক্ত হয়েছেন হয়েছেন বলে জানান।
নিজেকে উপমহাদেশের রেকর্ড সৃষ্টিকারী রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করে বলেন, টানা দুই মেয়াদে ১০ বছর মানুষের ভালোবাসায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ভারপ্রাপ্ত এবং চলতি দায়িত্বে হিসেবে আরো ৪১ দিন তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন।
রাজনীতিতে আর যুক্ত না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ আমাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন।
মানুষের সেই সম্মান তিনি অটুট রাখতে চান বলেও মন্তব্য।
একাত্তর/আরবি
