সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা, এই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাপচারিতা ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক ভ্রমণ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয় দিল্লিতে হাসিনা-বাইডেনে আলোচনা প্রসঙ্গে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে খুব ভালো কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি বাবা-মা, ভাইদের হারিয়েছি; পরিবারের লোকদের হারিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণই আমরা পরিবার। এদের মুখে দুই বেলা ভাত, জীবন মানের উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করছি।
প্রধানমন্ত্রী বাইডেনকে বলেন, আমার বিরাট পরিবার, ১৭০ মিলিয়নের পরিবার। এদের আমি সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে দিতে চাই। আমাদের স্বপ্ন একটা সুন্দর বাংলাদেশ। আমার জীবনের কাম্য একটাই, দেশবাসীর মঙ্গল করা।
উত্তরে বাইডেন বলেছেন, আমরা আপনার কাজ সম্পর্কে জানি। আপনার অর্জন রিমার্কেবল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে পাঁচটি বিষয় দরকার:
১. বিনিয়োগ বাড়াতে হবে
২. বাণিজ্য এবং বাণিজ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে
৩. কাজের সুযোগ বাড়ানো
৪. টেকনোলজির ব্যবহার বাড়ানো
৫. মানুষের সেবা বাড়ানো
মন্ত্রী আরও বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দরকার পাবলিক ডোমেইনে দেশ সম্পর্কে তথ্য দেয়া, দরকার পিস এন্ড স্ট্যাবিলিটি। আমরা যোদ্ধা জাতি। আমরা পারবো। উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা উন্নয়ন করবো।
নির্বাচন প্রসঙ্গে সরকার চাপের মুখে আছে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, আমরা কখনোই চাপের মুখে ছিলাম না। আমরা আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনারা গণমাধ্যমগুলো বরং চাপের মধ্যে আছেন। আপনারাই মূলত আমাদের চাপে ফেলতে চান।
গত ১৪ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভাবনীয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন এই উন্নয়নের কারণ স্থিতিশীলতা এবং নেতৃত্বের পরিপক্কতা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্স আগামীতে আমাদের সাথে আরও ভাল সম্পর্ক করতে চায়। দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিষয়ে ওনাদের সাথে কথা হয়েছে। আগেরটা যেহেতু ফ্রান্স করেছে, তাদের কাজে আমরা সন্তুষ্ট তাই এবারও তাদের দিতে চাই।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন আসে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আলোচনার নিয়েও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথেও আলোচনা হয়েছে। সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে সৌদি আরব আর আমিরাতের পক্ষ থেকেও।
আগস্টে মূল্যস্ফীতির নায়ক ডিম ও মুরগি: পরিকল্পনামন্ত্রী