শুক্রবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে চলতি বছরের মধ্যে অল্প সময়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। বৃষ্টিপাতের এ ধারা অব্যাহত রয়েছে আজও।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায়। সেখানে ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে। আর রাজধানীতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি ঝরেছে ওই সময়ে।
বর্ষা মৌসুমের শেষে হঠাৎ এমন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হিসেবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকা থেকে বিদায় নেওয়া শুরু করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বৃষ্টি সাধারণত কিছুটা বেড়ে যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত প্রতিবছর এ সময়ে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়ে থাকে। গত বছর ২৫ অক্টোবর রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ২৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এর আগে প্রায় প্রতিবছর বর্ষায় অর্থাৎ জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে কখনও কখনও ১০০ মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টি হয়েছে।
তবে সাধারণত দেখা গেছে, এ ধরনের অতি ভারী বৃষ্টি দিনের বেলা হয়ে থাকে। কিন্তু বৃহস্পতিবারের বৃষ্টি শুরু হয় সন্ধ্যার পর এবং সারারাত ধরে চলে। ফলে রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোয় জনভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী দুই-তিন দিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ার কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
শনিবার সকাল নয়টার পর থেকে সারা দেশের আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে যে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, সেটির বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়, সোমবার পর্যন্ত কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে।
রবি ও সোমবারের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ দুইদিন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে এবং সোমবার তা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি কমে আসবে এবং তাপমাত্রা বাড়বে।
আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের ৫ তারিখে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছিল। সৃষ্টি হওয়ার এক দিনের মাথায় তা ভারতের ওডিশা উপকূলে উঠে যায়। গত ১৯ দিন ধরে তা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে শেষ পর্যন্ত আবার বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা হয়ে রাজধানী ও তার চারপাশের এলাকায় হাজির হয়েছে।
আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টির পরিমাণ ক্রমেই কমে আসবে এবং তাপমাত্রা বাড়বে।
সাগরে লঘুচাপ, দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস
ঢাকায় ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত
তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবেছে সড়ক, ভোগান্তিতে মানুষ