বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি আসাদ চৌধুরী অসুস্থ হয়ে কানাডার ওসোয়ার শহরের লেকেরিজ হেলথ অশোয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন কানাডায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার ড. খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার ড. খলিলুর রহমান কবিকে দেখতে এবং তার শারীরিক অবস্থার খবর নিতে হাসপাতালে যান। তিনি জানান, কবির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে; তবে এখনো আশংকা পুরোপুরি কাটেনি। তবে তিনি হাই কমিশানারের সাথে পুরোপুরি চোখ মেলে তাকিয়ে হাত তুলে তার সালামের উত্তর দিয়েছেন এবং করমর্দন করেছেন।
উল্লেখ্য, কবি আসাদ চৌধুরী বেশ কয়েক বছর ধরেই কানাডায় ছেলে ও মেয়ের সাথে বাস করছিলেন। তিনি গত বছর নভেম্বর থেকে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
কবি আসাদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রধান কবিদের অন্যতম। তিনি তার আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গী, টেলিভিশনে জনপ্রিয় সব অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। মৌলিক কবিতা ছাড়াও শিশুতোষ গ্রন্থ, ছড়া, জীবনী এবং অনুবাদকর্মে তার অবদান প্রণিধানযোগ্য। ১৯৮৩ সালে তার রচিত 'বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ' শীর্ষক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এছাড়া একই বছর তিনি সম্পাদনা করেন বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভিত্তিক গ্রন্থ “সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু”।
কবি আসাদ চৌধুরী ১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।। ১৯৬০ সালে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে তিনি উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকে যাওয়ার পর কলেজে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে কবি আসাদ চৌধুরীর চাকুরিজীবন শুরু। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীকালে তিনি বিভিন্ন খবরের কাগজে সাংবদিকতা করেছেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি ভয়েজ অব জার্মানীর বাংলাদেশ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকায় বাংলা একাডেমিতে যোগদান করে দীর্ঘকাল চাকুরীর পর এর পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন কবির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাঁর পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানানো হয় কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের পক্ষ থেকে।
