নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের ওপর আবারো নিষেধাজ্ঞা আসছে, এমন আলোচনাকে এতোদিন গুজব বলেই জানিয়েছিলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানান, দেশের উন্নয়নই বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে হিংসার কারন করে তুলেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে কিনা তা সরকারের জানা নেই। আর নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেছেন, অনেক রাজনীতিবিদ ও সুধী সমাজ পয়সার বিনিময়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশিদের ভুল তথ্য দেয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, তোমরা স্যাংশন দিয় কোন দেশে গণতন্ত্র এনেছো বলো। তোমরা নাইজেরিয়া, কম্বোডিয়া, হাঙ্গেরিতে স্যাংশন দিয়েছিলো। কোথাও কি তোমরা সফল হয়েছ? তারা বলে, দেয়ার ওয়াজ নো এভিডেন্স।
বাংলাদেশ সম্পর্কে বাংলাদেশিরাই ভুল তথ্য উপস্থাপন করে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোনো কোনো মানবাধিকার সংস্থা এবং সিভিল সোসাইটি-এরা পলিটিক্যালি মোটিভেটেডে, ফাইন্যান্সিয়ালি ইনফ্লুয়েন্সড। এরফলে তারা ভুল তথ্য দিয়ে অনেকগুলো রেজুলেশন নিয়ে আসেন। যার ফলে অনেক অসুবিধা হয়।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৪ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমন্ত্রণে ব্রাসেলস যাবেন। সেখানে কোন ভাবেই ইউরোপিয় ইউনিয়নকে নির্বাচন পর্যবক্ষেক পাঠানোর কোন অনুরোধ বাংলাদেশ করবে না ।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের বিবেচনা করা দরকার নেই। আমি প্রায়ই বলে থাকি, পর্যবেক্ষক আসলে ভালো। না আসলে ব্যাপার না।
দেশে আইনের শাসন আছে। কোন বিদেশি চাপে নয় বরং আইনি প্রক্রিয়াতেই আদিলুর রহমানকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শ্রীলঙ্কার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কা গত এক বছরে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। ৬৯ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি থেকে এক বছরে ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দুঃসময়ে সাহায্য করার জন্য শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। কক্সবাজার-কলম্বো ফ্লাইট চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া চলমান ফ্লাইটের খরচ কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।
মন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কা সফরের সময় মার্কিন উপসহকারী মন্ত্রী আফরিন আক্তার নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চান। তখন সরকারের ইচ্ছা সম্পর্কে তাকে জানানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের আদিলুর রহমান সম্পর্কে জানতে চাওয়ায় তার অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে আফরিন আক্তারকে তথ্য দেয়া হয়েছে। এমন তথ্যে তিনি অবাক হয়েছেন। সরকার কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে না বলেও তাকে আশ্বস্ত করা হয়।
ভারতের ভিসার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভিসার দীর্ঘসূত্রিতা সম্পর্কে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি এ সমস্যা কমে আসবে।
ইউরোপীয় কমিশনের আমন্ত্রণে ব্রাসেলস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী