বাংলাদেশ হুইলচেয়ার স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নূর নাহিয়ান সারা দেশে প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলা নিয়ে কাজ করেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি পছন্দ করেন ক্রিকেট খেলতে। হুইল চেয়ারে বসে দুর্দান্ত সব শট খেলা এই ব্যাটসম্যান ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবন্ধীদের নিয়মিত জীবনের চলা চলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা বলেন তিনি। লেটস টক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরাসরি কথা বলার অভিজ্ঞতা অসাধারণ বলে বর্ণনা করেন নাহিয়ান।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নূর নাহিয়ান বলেন, যেহেতু সারা দেশের প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলা নিয়ে আমার কাজ, তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার জিজ্ঞাসা ছিলো, প্রতিবন্ধীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার জন্য অবকাঠামো সুবিধা দেয়ার বিষয়ে। যদিও বর্তমান সরকার আমাদের প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
‘অনেক কাজ হচ্ছে প্রতিবন্ধীদের জন্য। কিন্তু তারপরও অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। অনেক ভবনে আমরা নিজেদের মত করে প্রবেশের সুযোগ পাই না। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, শারীরিকভাবে বিশেষ-সক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এই ধরনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বাড়ানোর জন্য সরকারের পরিকল্পনা আছে কিনা?’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাকে প্রতিবন্ধী উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিবিধ কার্যাবলী তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিটি অবকাঠামোতে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার জন্য যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন, সে বিষয়ে অবগত করেন।

নাহিয়ান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানালেন উনারা এখনই কাজ শুরু করে দিয়েছেন আমাদের জন্য। আর আগামীতেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেনো সবখানে স্বাধীনভাবে একা একা যাতায়াত করতে পারে। যেহেতু প্রতিবন্ধীরাও এই সমাজে একই গণ্ডির মধ্যে থাকে, তাই সমাজে তাদের মধ্যে কোন বিভেদ যেনো না হয় এ সকল বিষয় তারা নিশ্চিত করছেন।
‘তিনি জানিয়েছেন এই ধারাবাহিকতায় বজায় রাখবেন আগামীতেও। প্রতিবন্ধীরা যেনো আগামীর বাংলাদেশে সানন্দে সবখানে অংশগ্রহণ করতে পারে।’
গত শুক্রবার লেটস টক-এর বিশেষ এই পর্বে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই পর্ব বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার হবে। সিআরআই ও ইয়াং বাংলার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এটি প্রকাশ করা হবে।
এর আগে ২০১৮ সালের লেটস টক অনুষ্ঠানে তরুণদের জিজ্ঞাসার জবাবে প্রধানমন্ত্রী নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং তরুণদের কথা শোনেন।

এবারের এই আয়োজনে জানা যাবে তরুণদের প্রশ্নের উত্তরে কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে জানা যাবে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার অনেক অজানা বিষয়ক তথ্য।
লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে দেশ গঠনে কাজ করে যাওয়া ও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য সুনাম নিয়ে আসা প্রায় ৩০০ জন তরুণ অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, পররাষ্ট্র নীতি, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু থেকে শুরু করে স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন এবং সেখানে তরুণদের ভূমিকা কি হবে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
নারীর নিরাপত্তা, নারী ক্ষমতায়নে তাদের চাকরির পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ সমূহ এবং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের পরিকল্পনা ও আমাদের করণীয় নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে তরুণদের সেতুবন্ধন গড়ে দিতে ২০১৪ সাল থেকে ইয়াং বাংলা লেটস টক শিরোনামে এ আয়োজন করে আসছে। ২০১৮ সালের ভোটের আগে প্রথমবারের মতো এ অনুষ্ঠানে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
লেটস টকের বেশ কয়েকটি পর্বে উপস্থিত হয়েছেন তরুণদের সঙ্গে ভাবনা বিনিময় করেছেন সিআরআইয়ের চেয়ারম্যান তথ্য প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়। লেটস টকে এসেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। এছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন নীতি নির্ধারকরাও লেটস টকে মুখোমুখি হয়েছেন দেশের তরুণদের।
লেটস টক: দ্বিতীয়বার তরুণদের মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি সাক্ষাৎ সারাজীবন লালন করবো: সেঁজুতি
ইশতেহারের আগে তরুণদের মতামত জানলেন প্রধানমন্ত্রী