মানসিক ভারসাম্যহীন দীপক কুমার ঠাকুর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে পিরোজপুর কারাগারে বন্দী হন।
এরপর শুরু হয় ৩৫ বছর বয়সী দীপকের বিরুদ্ধে তদন্ত। আর তখন জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন দীপক ঠাকুরের বাড়ি ভারতের বিহার রাজ্যের সমস্তিপুর মহুকুমার মনিহারপুর গ্রামে।
পরে তাকে ভারতে পাঠানোর লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সাজার মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।
অবশেষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দীপককে ভারতের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করার উদ্যোগ নেয়।
গত বছরের ১৯ অক্টোবর গেদে সীমান্ত গিয়ে বিজিবি দীপককে পাঠাতে গেলে আইনগত কোনো অভিভাবক না পাওয়ায় তাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায় বিএসএফ।
এরপর দীপককে দেশের ফেরাতে সহায়তা চাওয়া হয় একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক মো শামসুল হুদার কাছে। অভিবাসন বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতে আটকে পড়াদের দেশে ফেরাতে কাজ করেন হুদা।
তারই উদ্যোগে গত ১৪ মার্চ অভিষেক নামের ঝাড়খন্ডের এক বাসিন্দাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে হস্তান্তর করা হয়।

আর এ ঘটনা প্রচার হওয়ার পর বাংলাদেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ দীপকের বিষয়টিও শামসুল হুদার নজরে আনে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ হুদাকে কিছু তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দীপকের পরিবারকে খুঁজে দেয়ার অনুরোধ জানায়।
সংশ্লিষ্ট দেশের আইনত অভিভাবক ছাড়া কাউকে সে দেশে ফেরানো সম্ভব নয়। এ বিষয়টি জানা থাকায় শামসুল হুদাও দীপকের পরিবারের খোঁজে নেমে যান।
শামসুল হুদা বলেন, আমার আগের সাফল্যের ওপর ভর করে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যাদি ও মামলার কাগজপত্র বিশ্লেষণ শুরু করি। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে ও প্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে গত ১৭ মার্চ বিহারের মনিহারপুর গ্রামে দীপকের পরিবারকে খুঁজে পাই।
সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও দীপকের বাবা ও নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন শামসুল হুদা।
তিনি বলেন, দীপকের আইনগত অভিভাবকের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে তাকে নিজ ঘরে ফেরানোর কাজ শুরু করে দেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি।
আর এই ফলশ্রুতিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দীপক কুমার ঠাকুরকে গেদে সীমান্ত দিয়ে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি ও বিএসএফ সদস্য এবং ইমিগ্রেশন অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশে দীপককে দেশে ফেরানো হয়।
দীপকের পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত হন তার বাবা রাম নরেশ ঠাকুর ও দুলাভাই গৌরব কুমার। পাঁচ বছর মানসিক ভারসাম্যহীন সন্তানকে পেয়ে আনন্দের অশ্রুতে সিক্ত হন দীপকের বাবা।
৫০ বছর পর যেভাবে মাকে খুঁজে পেলেন এলিজাবেথ