সারাদেশে সমবায় ছড়িয়ে দিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর মাধ্যমে খাদ্যের নিশ্চয়তা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জীবনমান উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। সরকারে আসার পর থেকে প্রচেষ্টা ছিলো দেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত।
শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দাড়িয়াকুল গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মত বিনিময় এবং সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে কৃষি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন করে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিলো। এটি বাস্তবায়নের জন্য অনেকগুলো ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। তারমধ্যে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ একটি ব্যবস্থা।
পরিবারগুলো ভাগ হয়ে গেলে, জমিতে আইল পড়ে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে যা উৎপাদন হবে, সেখান থেকে কেউ সঞ্চয় করতে চাইলেও পারবেন। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এক্ষেত্রে সহায়তা করবে।
বিনা জামানতেও ঋণ দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন করে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। নেতারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে সমবায় পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারেন।

সরকার প্রধান বলেন, বয়স হয়ে গেলে যেন কেউ কষ্টে না ভোগে সেই উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। পেনশন স্কিম চালালে ভাতার ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব।
কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ায় যত অনাবাদী জমি আছে, সেগুলোতে চাষ করার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এসব জমি সমবায়ের আওতায় এনে চাষ করা হবে। যার যার জমি তিনি ফসলের ভাগ পাবেন।
অবসর পেলে বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে টুঙ্গিপাড়া এসে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
এর আগে সকালে একদিনের সফরে গণভবন থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছান শেখ হাসিনা। এরপর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অন্য শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শেখ হাসিনা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
