মালয়েশিয়ার বন্ধ বাজারে নিয়োগপত্র পেয়েও যেতে পারেনি ৩০ হাজারের বেশি কর্মী। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজ থাকার পরেও গেলো জানুয়ারি থেকে বহু কর্মীর নামে ভিসা এসেছে। যারা শেষ পর্যন্ত যেতে পারেনি মালয়েশিয়া। যে পদ্ধতিতে কর্মীরা মালয়েশিয়া যায়, তার পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যতেও একই ঘটনা ঘটবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে শুক্রবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা যায়, টিকেট নেই এমন বহু লোক অপেক্ষা করছেন। তাদের ভিসায় আছে কাজের অনুমোদন। প্রতিজনের খরচ হয়েছে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা।
প্রশ্ন হচ্ছে, মে মাসের পর আর কোন কর্মী মালয়েশিয়া ঢুকতে পারবে না; এ তথ্য মার্চে জানার পরও কেনো টিকেটের ব্যবস্থা করেনি এজেন্সিগুলো?
পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এজেন্সিগুলো হয়তো ৫০ জনের দরকার আছে, সেখানে ১০০ জনের জন্য নিয়োগপত্র নিয়ে আসতো। আর তাতেই বাধে বিপত্তি।

অনেকেই বলছেন, গেলো সপ্তাহ পর্যন্ত ভিসা এসেছে কর্মীর নামে, যাদের এখনো মন্ত্রণালয় থেকে মেলেনি ছাড়পত্র।
বায়রার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল আমিন স্বপন বলেন, জানানো হয়েছিলো- মার্চ থেকে ভিসা বন্ধ হয়ে যাবে। তখনই যদি আমরা ভাবতাম কতো ভিসা আছে এবং কতো সময়ের মধ্যে আমাদের টিকিটের ব্যবস্থা করতে হবে তাহলে ভালো হতো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই দেশের সরকারই ছাড় দিয়েছে। যার কুফল ভোগ করতে হচ্ছে কর্মীদের।
এ পর্যন্ত ৫ লাখ ২৭ হাজারের বেশি চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে মালয়েশিয়া হাইকমিশন। এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৭২ হাজারের বেশি কর্মী গেছেন মালয়েশিয়া।
চক্র তৈরি করে কর্মী পাঠানোয় অনিয়মের ঘটনায় চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে বাংলাদেশিদের জন্য আবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলে। তখন আবারও চক্র গড়ে ওঠে। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চে মালয়েশিয়া জানায়, দেশটি আপাতত আর শ্রমিক নেবে না। যারা অনুমোদন পেয়েছেন, ভিসা পেয়েছেন, তাদের ৩১ মের মধ্যে মালয়েশিয়ায় ঢুকতে হবে।

এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে (রিক্রুটিং এজেন্সি) টাকা দেয়া বহু মানুষ বিপদে পড়েন। সময় হাতে না থাকায় উড়োজাহাজের টিকিট ছাড়াই তারা বিমানবন্দরে ভিড় করেন।
মালয়েশিয়া সরকার ১৫টি সোর্স কান্ট্রির জন্য নতুন এ বিধিনিষেধ আরোপ করে। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ তাদের ওয়েবসাইটে একটি নোটিশ প্রকাশ করে। সেখানে উল্লেখ ছিলো, ৩১ মে মালয়েশিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন হ্যান্ডলিং এজেন্সি পরিষেবাটি বন্ধ করা হবে।
শেষদিনের ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরে মানুষের ঢল 