ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে পিতৃত্বকালীন ছুটির দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। এই রিটে দেশের সব প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের পিতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার ছয় মাসের শিশু নুবাইদ বিন সাদীকে নিয়ে হাইকোর্টে রিটটি করেন তার মা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। রিটে বিবাদী করা হয়েছে ১১ জনকে। এদের মধ্যে রয়েছেন- কেবিনেট সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব প্রমুখ।
রিটে বলা হয়েছে, নবজাতকের যত্নে কেবল মায়ের ভূমিকা মুখ্য, এই ধারনার পরিবর্তন হয়েছে। বাবার ভূমিকাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার মত ব্যস্ত শহরে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য নেওয়ার সুযোগ সীমিত।
এ ছাড়া সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশু জন্মের হার দেশে অনেক বেশি হওয়ায় সিজারের পর সুস্থ হতেও মায়ের সময় লাগে। এ সময়ে নবজাতক ও মায়ের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।

ফলে পিতৃত্বকালীন ছুটির সুযোগ না থাকায় যারা নতুন বাবা হন, তাদের স্ত্রী ও নবজাতকের দেখাশোনা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আইনজীবী ইশরাত হাসান ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ ৭৮টির বেশি দেশে পিতৃত্বকালীন ছুটির উদাহরণ টেনেছেন। বলেছেন, পিতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা না থাকা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের সরকারী কর্মজীবী নারীরা ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পেলেও পিতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম ছুটি দেয়া হয়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পিতৃত্বকালীন ছুটি এক সপ্তাহের বেশি পাওয়া যায় না।
২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের সরকারি কর্মজীবী নারীরা ছয় মাস করে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাচ্ছেন, যা আগে ছিল চার মাস। একজন নারী চাকরি জীবনে দুইবার মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতে পারেন।
ইমরাননামা: সাধারণ খামারি থেকে গরু ‘মাফিয়া’