সামরিক আমলের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা দ্রুত যুগোপযোগী করে নতুন বিধিমালা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সচিব সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
একই সঙ্গে ২০১২ সালের শুদ্ধাচার কৌশল সংশোধন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন প্রথম সচিব সভা করেন তখন আমাদের কাছে একটি নির্দেশনা এসেছিলো, আমরা যেন বছরে অন্তত দুটি সচিব সভা করি। সে হিসেবে আমরা হিসাব করেছিলাম যে জুলাই মাসে আমরা একটি সচিব সভা করবো। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, প্রথম সভার যে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সেটি জানতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে চিঠি দিয়েছিলাম। সেটির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজকের সভা করেছি।
সভায় গত সভার বাস্তবায়ন অগ্রগতি আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুদ্ধাচার বিষয়ে কিছু আলোচনা করেছি। বাজেট বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী ইশতেহার নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়া, আমাদের কিছু দাপ্তরিক কাজে প্রধানমন্ত্রী সময়ে সময়ে যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছিলেন সেগুলো যেন যত্ন সহকারে সিরিয়াসলি অনুসরণ করা হয় সে ব্যাপারে সভায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সভায় বিশেষ কোনো নির্দেশনা বা শুদ্ধাচার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করেছি, আমাদের যে শুদ্ধাচার কৌশলটি আছে সেটি প্রায় ১২ বছর হয়ে গেছে। এটি এখন আমরা আপডেট করার চিন্তা-ভাবনা করছি। সে প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা যুগোপযোগী করা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের একটি আচরণবিধি ছিলো ১৯৭৯ সালের, সেটিকে আপডেট করার কার্যক্রম চলছিলো। তার অগ্রগতি কী, সেটি আমরা জেনেছি। আশা করছি দ্রুত সেটি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
এর আগেও এ বিধিমালাটি যুগোপযোগী করার কথা বলা হয়েছিলো। করে নাগাদ এটি চূড়ান্ত হতে পারে-জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে এটি খুব দ্রুতই চূড়ান্ত করা হবে। আশা করছি খুব দ্রুতই হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সচিব সভায় তারা সুনির্দিষ্টবাবে এ বিসয়ে কোনো আলোচনা করেননি।
তিনি বলেন, এত সচিব নিয়েতো আমরা এ জাতীয় বিষয়ে আলোচনা করবো না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একজন-দুজনের অপকর্ম নিয়ে, কোনো একটি অভিযোগ নিয়ে তো এতো সচিব ডেকে এনে আলোচনা করবো না। এটি তো খুব স্বাভাবিক বিষয়।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত আমরা যেটি করে থাকি, বাজেট বাস্তবায়নের স্বচ্ছতার কথা বলেছি। আমরা বলেছি, অধস্তন যে অফিসগুলো আছে, যেখান থেকে মানুষকে সেবা দেওয়া হয়, সেই সেবাটা যেন ঠিকমতো দেওয়া হয়। সেই কাজটা যেন জোরালোভাবে মনিটর করা হয়। মানুষের যদি কোনো অভিযোগ থাকে সেগুলো যেন খুব সিরিয়াসলি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যয় সংকোচন নীতিতে সরকার