বিসিএসের প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় গ্রেপ্তার পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলী এখন দেশের অন্যতম আলোচিত চরিত্র। মাদারীপুরের নিজ গ্রামে তার পরিচিতি ধার্মিক ও কোটিপতি দানবীর হিসেবে। কোটি টাকা দামের গাড়িতে চড়েন তার সন্তানরা। ২০১৪ সালে বরখাস্ত হওয়া পর্যন্ত চাকরি জীবনে নানা দুর্নীতিতে জড়ান তিনি।
সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক গাড়ি চালক আবেদ আলী মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বাসিন্দা। দরিদ্র পরিবারের সন্তান ঢাকায় আসেন নিজের ভাগ্য ফেরাতে।
সরকারি কর্ম কমিশনে গাড়ি চালকের চাকরি পাবার পরই তার কপাল খুলে যায়। বিভিন্ন সময় সরকারি চাকরির অন্তত ৩০টি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আবেদ আলী। যতো প্রশ্ন ফাস হয়েছে, ততো সম্পদশালী হয়েছে তিনি। অন্তত ছয় কোটি টাকা খরচ করে গ্রামে গড়েছেন বিলাসবহুল তিন তলা ডুপ্লেক্স বাড়ি। নিজ নামে রয়েছে ঈদগাহ, মসজিদ, গড়েছেন মাদরাসাও।
২০১৪ সালে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণ হবার পর পিএসসির চাকরি হারান তিনি। শাস্তি বলতে সেটুকুই। তখন থেকেই এলাকায় নিয়মিত হন। নিজেকে প্রচার করেন শিল্পপতি হিসেবে। স্বপ্ন দেখেন উপজেলার চেয়ারম্যান হবার।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে ব্যাপক দান-খয়রাত করেছেন আবিদ আলী। বিত্ত বৈভব হবার পর নামের আগে জুড়ে দেন সৈয়দ পদবি। তিনি ও তার সন্তানরা কোটি টাকার দামি গাড়িতে চড়ে গ্রামে যেতেন।
ঢাকার শেওড়াপাড়ার ওয়াসা গলিতে আছে তার তিনটি ফ্লাট। গেলো ১৮ মে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কুয়াকাটার হোটেল সান মেরিনার মালিকানাও দাবি করেন তিনি। যদিও হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে তার এই দাবি সত্যি নয়।
২০১৪ সালে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে পিএসসির তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে স্বভাবগত অপকর্মকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তখনই এই অপকর্মকারিদের শাস্তি হলে হয়তো পরবর্তী পরীক্ষার প্রশ্ন আর ফাঁস হতো না।
এবার দৃশ্যপটে আবেদ আলী, কুলি থেকে কোটিপতি