বিসিএসের ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ জন আসামির মধ্যে সাতজন। পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীসহ জবানবন্দি দেয়া সাত আসামি দিয়েছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে কোন বছর কারা বিএসএস ক্যাডার হয়েছেন; কারা নেপথ্যে প্রশ্নফাঁসের মদত দিয়েছেন, পিএসসির কোন কোন কর্মকর্তা এসব তথ্য জানতেন; তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে প্রশ্নফাঁসের মূল হোতাদের নাম।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানার চরআলগী গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে নোমান সিদ্দিক। এক সময় একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরি করতেন। ২০০৪ সালে পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন চাকরির তদবির করতেন তিনি। তখন এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয় অর্থ বিভাগের অডিটর প্রিয়নাথ রায়ের সঙ্গে। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বিক্রি করে নোমান ঢাকার পাশেই রীতিমতো একটি তৈরি পোশাক কারখানার মালিক হয়েছেন। থাকেন মিরপুর ১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতার ৪৫৮/৪ নম্বর ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটের মালিকও তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রিয়নাথ রায় বলেছেন, যখন তিনি নোমান সিদ্দিকের সঙ্গে পরিচিত হন, তখন নোমান একটি বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে দুজনকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পাইয়ে দিতে গিয়ে নোমানের সঙ্গে তার পরিচয়। এদের মধ্যে একজন ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিয়োগে ভাইভার তদবির করেন। নোমান সিদ্দিক বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের প্রশ্নও ফাঁস করেছেন কয়েক বছর ধরে। এই নোমান প্রশ্নফাঁসের অন্যতম হোতা।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. সাখাওয়াত হোসেন তার জবানবন্দিতে বলেছেন, ৮ম শ্রেণি পাস করা সাখাওয়াত পানির ফিল্টারের ব্যবসায়ী। পল্টনের কালভার্ট রোডের একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় তার পানির ফিল্টারের গুদাম। ব্যবসায় সহযোগিতা করেন তারই আপন ভাই সিদ্ধেশ্বরী কলেজের ছাত্র সায়েম হোসেন। পিএসসির অফিস সহায়ক মো. সাজেদুল ইসলাম তার বন্ধু। এই সূত্রে দামি গাড়ি নিয়ে সাজেদুল প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা করে চাকরি প্রত্যাশী কেউ থাকলে জানাতে বলেন। আফতাবনগরে সাজেদুলের একটি ফ্ল্যাট। সবশেষ গেল ৫ জুলাই হওয়া রেলের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার ৪৬ জন প্রার্থীকে তার পল্টনের গুদামে রাখা হয়। সেখানে রাতভর ফাঁস হওয়া প্রশ্ন মুখস্থ করে পরদিন পরীক্ষা দিতে যান চাকরি প্রার্থীরা।

সাখাওয়াতের ভাই সায়েম সিআইডিকে জানিয়েছেন, সাজেদুল তাকে ফোন করে পল্টন থেকে চাকরি প্রার্থীদের গুদামে নিয়ে রাখতে বলেন। একটি মাইক্রো থেকে আটজন চাকরিপ্রত্যাশীকে গুদামে নিয়ে যান। এভাবে ধাপে ধাপে মোট ৪৬ জনকে ওই গুদামে নেয়া হয়।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আলোচিত পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে আবেদ আলী জানিয়েছে, ঢাকায় তিনি একটি ছয়তলা বাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট ও একটি গাড়ির মালিক। গ্রামে আছে তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি। সিআইডির কর্মকর্তাদের ধারণা আবেদ আলীর সম্পদ এর চেয়ে বেশি রয়েছে।
আরেক অভিযুক্ত উপপরিচালক মো. আবু জাফর। গ্রামের বাড়ি, পটুয়াখালির গলাচিপার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন ৪-৫ বছর আগে ৬০ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এই আবু জাফর বেশ কয়েক বছর ধরে তার স্ত্রীর জোতির নামে মালিবাগের চৌধুরী পাড়ায় একটি কোচিং সেন্টার করেছেন। যেখানে সরকারি চাকুরি প্রত্যাশীরা কোচিং করতো। ধারণা করা হচ্ছে, কোচিং সেন্টারের আড়ালে প্রশ্নপত্র কেনা বেচার কাজ করতো জাফর।
এবার দৃশ্যপটে আবেদ আলী, কুলি থেকে কোটিপতি
আবেদ আলী এলাকায় ধার্মিক ও কোটিপতি দানবীর