ট্রেনে যাতায়াত করা যাত্রীদের উদ্দেশ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মাদ ফাওজুল কবির বলেছেন, সবাই আশা করেন, রেল গাড়িটি তাদের বাড়ির পাশে থামবে। আবার তারা এটাও চান, তারা দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাবেন। এটা সম্ভব নয় বলেও সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে, রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই জোড়া ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নতুন এই দুই ট্রেনের মধ্যে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ঢাকা-খুলনা এবং রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকা-বেনাপোল রুটে চলাচল করবে।
রেলপথ উপদেষ্টা বলেন, আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন যে পদ্মা রেল সেতু সংযোগের মাধ্যমে খুলনা এবং ঢাকার মধ্যে একটা দ্রুত যাতায়াতের ব্যবস্থা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকের পদ্মা রেলসেতু সংযোগের মাধ্যমে খুলনা এবং ঢাকার মধ্যে একটা দ্রুত যাতায়াতের ব্যবস্থা হয়েছে। পৌনে চার ঘণ্টায় ঢাকা থেকে খুলনায় পৌঁছে যাবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রেলের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
রেলের নানান রকম সংকট আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই অসন্তোষ ব্যক্ত করে থাকেন, কিন্তু আপনাদের জানতে হবে রেল কেন আপনাদের প্রকৃত সুবিধা দিতে পারে না। আমাদের লোকোমেটিভ সংকট আছে, কোচের সংকট রয়েছে, ওয়াগন ও লোকবলের সংকট আছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, রেলওয়ের আজকের যে বর্তমান অবস্থা, এই অবস্থাতে আসার একটি বড় কারণ হচ্ছে অপব্যয়। যত্রতত্র রেল স্টেশন বানানো হয়েছে, লাইন বিস্তার করা হয়েছে। কিন্তু ইঞ্জিন, কোচ, জনবল আছে কিনা সেগুলো না দেখে, এসব করা হয়েছে। ফলে লোকসান কমছে না।

সাধারণ যাত্রীদের উদ্দেশ্য করে ফাওজুল কবির বলেন, সবাই আশা করেন যে, রেল গাড়িটি তাদের বাড়ির পাশে থামবে। আবার তারা এটাও চান, তারা দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাবেন। এটা সম্ভব না। আপনি যতই স্টপেজের সংখ্যা বাড়াবেন ততই যাতায়াতের সময় বাড়বে।
তিনি আরও যোগ করে বলেন, এখন এমন একটা ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, প্রত্যেক জায়গাতেই রেলস্টেশন করতে হবে। প্রত্যেক স্টেশনেই রেলগাড়ি থামাতে হবে। এটা একটা ভালো লক্ষণ নয়। যেখানে যাত্রী বেশি হবে সেখানেই গাড়ি থামবে। যেখানেই রাজস্ব পাওয়া যাবে, সেখানে রেলগাড়ি থামবে।
রেলওয়ে উপদেষ্টা বলেন, রেলওয়ে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। রেলকে তার আয় দিয়ে ব্যয় নির্বাহ করতে হবে। সরকার সব খাতেই কিন্তু ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই ভর্তুকি আর কত দেওয়া যাবে? এজন্য আমাদের ব্যয় সাশ্রয়ী হতে হবে। ব্যয় সাশ্রয়ী হতে হবে আমাদের পরিকল্পনা, সাশ্রয়ী হতে হবে ব্যয়ে।

উপদেষ্টা বলেন, রেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানাবো কীভাবে রেলের খরচ কমানো যায়। ব্যয় যদি কমানো যায় তাহলে রেল সেবার যে প্রত্যাশা সেটি আমরা পূরণ করতে পারবো। নতুন যে ট্রেন চালু হলো এটা যেন সময় মেনে চলে এবং সুবিধাগুলো বজায় রাখার আহবানও জানান তিনি।
