হাতির ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় ‘অ্যানিমেল ওয়েল ফেয়ার অ্যাক্ট’ বা পশু কল্যাণ আইন প্রণয়ন করা উচিত বলে মনে করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, হাতি সংরক্ষণে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করতে হবে।
বুধবার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে বন ভবনে বিশ্ব হাতি দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, গৃহপালিত হাতি দিয়ে সার্কাস দেখিয়ে জীবিকা উপার্জন করা যাবে না। হাতির উপযোগী গাছ লাগানো, করিডোর চিহ্নিত করে মুক্ত রাখা, জরিপের মাধ্যমে হাতির সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ এবং মানুষ ও হাতির মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
বর্তমানে দেশে বন্যহাতির সংখ্যা প্রায় ২৬৮। প্রাকৃতিক বনায়ন কমে যাওয়ায় হাতির আবাসস্থল ঝুঁকিতে আছে। নেই যথাযথ করিডোর ব্যবস্থা। বিশ্ব হাতি দিবস ছিলো গত ১২ আগস্ট। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। হাতি সংরক্ষণ ও প্রজনন নিয়ে হয় আলোচনা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাতির করিডোর চিহ্নিত করে সঠিক ব্যবস্থাপনা নেয়া জরুরি। তাদের অভিযোগ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এখনও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পায়নি। তবে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, হাতির সুরক্ষা ও প্রজননের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ‘হাতি সংরক্ষণ প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, হাতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে হাতির খাদ্যপযোগী গাছের বাগান, ৫০ হেক্টর বাঁশবাগান সৃজন এবং রোপিত উদ্ভিদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। হাতির জন্য টেকসই আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, হাতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে হাতির খাদ্যপযোগী গাছের বাগান, ৫০ হেক্টর বাঁশবাগান সৃজন এবং রোপিত উদ্ভিদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মানুষ ও হাতির মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য ইকোলোজিক্যাল বাউন্ডারি বায়োফেন্সিং নির্মাণ করা হবে, যেখানে বেত, লেবু ও বড়ইসহ কাঁটাজাতীয় বেড়া দিয়ে ১০ কিলোমিটার সীমানা তৈরি করা হবে।
একইসঙ্গে এলিফ্যান্ট রিজার্ভ-সংলগ্ন এলাকায় ‘অ্যান্টি ডেপ্রেডেশন স্কোয়াড (এডিএস), এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) ও এলিফ্যান্ট রেসকিউ টিম’ গঠন করে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। হাতির চলাচল পর্যবেক্ষণে ১৬টি ট্রি টাওয়ার নির্মাণ এবং গাজীপুর সাফারি পার্ক ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দুটি হাতি উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও জানান, আহত হাতির চিকিৎসার জন্য সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও শেরপুর অঞ্চলে অস্থায়ী সেড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে এনথ্রোপোজেনিক প্রভাব ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণ এবং নৃ-বৈজ্ঞানিক জরিপ পরিচালনা করা হবে। চট্টগ্রামের চুনতিতে ১০ একর জায়গাজুড়ে একটি হাতি অভয়ারণ্য স্থাপন করা হবে, যেখানে পোষা হাতিদের পুনর্বাসন করা হবে।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত, অতিরিক্ত এসপি হাফিজ বরখাস্ত