ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে একচল্লিশ ভাগের বেশি মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান। আর জামায়াতের ঝুলিতে পরতে পারে ত্রিশ ভাগের কিছু বেশি। বুধবার জরিপের এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ইনোভেশন কনসাল্টিং।
তারা জানায়, আগামীতে সরকারের গঠনের জন্য বিএনপিকেই বেশি যোগ্য মনে করছে মানুষ। আর নারীদের মাঝে জনপ্রিয়তা বেশি রয়েছে বিএনপির। প্রায় সাড়ে দশ হাজার মানুষের ওপর চালানো হয় এই জরিপ।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় আর্কাইভস ভবনের মিলনায়তনে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের সব জেলায় ১০ হাজার ৪১৩ জন মানুষের ওপর জরিপ চালায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিং।
সংস্থাটি জানায়, ‘জনগণের নির্বাচন ভাবনা’ নিয়ে দ্বিতীয় দফার দ্বিতীয় পর্বের জরিপের ফল এটি। এতে অংশ নেন ১০ হাজার ৪১৩ জন। তাদের মধ্যে ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ শহরের ও ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রামের ভোটার। ৬৪ জেলায় ৫২১টি প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিটে জরিপটি চালানো হয়।
জরিপের তথ্যে দেখা যায়, মোট ৪১.৩০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবার পক্ষে। জামায়াতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৩০.৩০ ভাগ অর্থাৎ প্রায় এগারো শতাংশ কম। ২০০৮ সালের ভোটের হিসাব বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীর ভোট বাড়ছে সাড়ে সাত গুনেরও বেশি।
আগামীতে সরকার গঠনের জন্য যোগ্যতম দল হিসেবে বিএনপিকে বিবেচনা করছে ৩৯.১ ভাগ মানুষ। এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষে ২৮.১ ভাগ মানুষ আর এনসিপিকে যোগ্য মনে করছে ৪.৯ ভাগ।
যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে বিএনপির ভোট বেড়ে হতে পারে সাড়ে পঁয়তাল্লিশ শতাংশে আর জামায়াতের ভোট বেড়ে হবে সাড়ে তেত্রিশ ভাগ। তবে ভোটে থাকলে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চান ১৮ শতাংশের বেশি মানুষ।
জরিপের তথ্য বলছে, ষাটোর্ধরা বিএনপিকে বেশি ভোট দিতে চান। সংখ্যায় ৪৮.৬ ভাগ, জামায়াতের ক্ষেত্রে যা সাড়ে ছাব্বিশ ভাগ। আর যাদের বয়স ১৮ থেকে আটাশের মাঝে তাদের মাঝে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বেশি।

জরিপ অনুযায়ী কম শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের মাঝে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেশী আর উচ্চ শিক্ষিতদের মাঝে জামায়াত এগিয়ে আছে। লিঙ্গ ভিত্তিক তথ্যে দেয়া যায় নারী ভোটের সর্বোচ্চ অংশ রয়েছে বিএনপির পক্ষে যা ছত্রিশ দশমিক দুই ভাগ। জামায়াতের ক্ষেত্রে এর হার ছাব্বিশ দশমিক ৭ ভাগ।
জরিপে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ মনে করেন দলটিকে সুযোগ দেয়া উচিত। তবে ৪৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আগে বিচার হওয়া দরকার।
সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াত সরওয়ার। পরে ফলাফলের ওপর আলোচনায় অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ এম শাহান, ভয়েস ফর রিফর্ম এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।
আগামী নির্বাচন হবে গণতন্ত্রের নতুন ভিত্তি: প্রধান উপদেষ্টা