পৃথিবী থেকে অশান্তি দূর করে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে শুভ বড়দিন। যিশু খ্রিস্টের ২০২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায় উৎসবের জোয়ারে ভাসছে। গির্জায় গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, শুভেচ্ছা বিনিময় আর রঙিন আলোকসজ্জায় সেজেছে চারপাশ।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর গির্জাগুলোতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। কাকরাইলের সেন্ট মেরীস ক্যাথিড্রালে অনুষ্ঠিত হয় বড়দিনের মূল প্রার্থনা। এ বছর যিশুর ২০২৫তম জন্মজয়ন্তী হওয়ার কারণে এটিকে ‘জুবলী বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে, যা উৎসবের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রার্থনা সভায় সেন্ট মেরীস ক্যাথিড্রালের ফাদার আলবার্ট রোজারিও বলেন, জীবন যেন প্রেমময় হয় এবং ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়। এবারের বড়দিন আমাদের জন্য আরও আনন্দের, কারণ আমরা জুবলী বর্ষ উদযাপন করছি। বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরে আসুক- এটাই আমাদের আজকের প্রার্থনা।
বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে বুধবার রাত থেকেই। প্রতিটি গির্জায় যিশুর জন্মের স্মৃতিস্মারক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে প্রতীকী গোশালা। ঘরগুলোতে ঝুলছে রঙিন তারা, সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি, বল ও চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা। শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে সান্তাক্লজের বিশেষ উপহার এবং কেক ও পিঠা।
রাজধানীর অভিজাত হোটেল, রেস্তোরাঁ ও শপিংমলগুলো বড়দিন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে। প্রবেশপথে বিশাল ক্রিসমাস ট্রি এবং আলোকসজ্জা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
গির্জায় আসা ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেন্ট মেরীস ক্যাথিড্রালের ফাদার কিউবার বলেন, বড়দিন সার্বজনীন ঐক্য ও শান্তির বার্তা দেয়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য, শান্তি ও মানবসেবার পথে চলা।”
বড়দিন উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আলাদা বাণীতে খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
শীতের সকালের এই উৎসবে কেবল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ই নয়, বরং বিভিন্ন ধর্মের মানুষও একে অপরের আনন্দ ভাগ করে নিয়ে সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।
