বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোঁড়েনি: অন্তর্বর্তী সরকার

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি ঘিরে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে পুলিশের সঙ্গে মঞ্চের নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষ। এ সময় পুলিশকে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার এবং লাঠিপেটা করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

এ ঘটনা নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের এই বিবৃতি হুবহু তুলে ধরা হলো:

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি।

আজ শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।

জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (lethal weapon) ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতিমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

 

সরকার দেশের সব নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

আরবিএস
সীমান্তে আমরা একজনকেও পুশইন হতে দেইনি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। 
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ধার্য করেছে আদালত।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আজ আরও ২০টি বিল পাস হয়েছে। এরমধ্যে সকালের অধিবেশনে ১০টি বিল পাস হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর