দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকায় থাকা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি দূর করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। রোববার, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন জানান, প্রকৃত উপকারভোগীদের শনাক্ত করতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তালিকা সংশোধন ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর (চট্টগ্রাম-১৫) এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা তালিকায় প্রকৃত উপকারভোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। যোগ্য ব্যক্তিদের ভাতা নিশ্চিত করতে তালিকাগুলো সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস করা হবে।

তিনি আরও জানান যে, এই প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিগুলো সরাসরি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তালিকা যাচাই করবে যাতে প্রকৃত দুস্থ মানুষই ভাতার কার্ড পায়।পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতাভুক্ত সুবিধাভোগীদের সমন্বিতভাবে একই ছাতার আওতায় আনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে এসব কর্মসূচি চালু হলেও পরবর্তীতে তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দেখা দেয়। সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে প্রস্তুত করা তালিকাগুলো অবশ্যই পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। অনিয়ম দূর করতে আমরা বিভিন্ন মহলের মতামত নিচ্ছি।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বর্তমানে কোনো যোগ্য খাত যদি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে থেকে থাকে, তবে সরকার তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। তিনি সরকারের স্বচ্ছতার উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি চালু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, বর্তমান সরকার স্বজনপ্রীতি পরিহার করে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। তিনি বলেন, প্রকৃত মানুষ যাতে ভাতা পান, সেজন্য আমাদের আন্তরিক থাকতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই আমরা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোতে চাই।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশের বিশাল সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে যে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম ছিল, তা দূর করে একটি সুসংগঠিত ডাটাবেজ তৈরির পথে হাঁটছে সরকার। এর ফলে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়ার পথ সুগম হবে।
ভর্তিতে লটারি নিয়ে হাসনাতের প্রশ্ন, জবাবে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী