বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মেধাবী তরুণ ওয়াকিমুল ইসলামের উদ্ভাবনী ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ওয়াকিমুলের ‘স্মার্ট কার’-এ চড়ে তাকে উৎসাহ দিয়েছেন তিনি। শনিবার, সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে ১৭ বছর বয়সী তরুণ ওয়াকিমুল তার নিজের তৈরি ব্যাটারিচালিত বিশেষ বাহনটি প্রধানমন্ত্রীকে দেখান। ওয়াকিমুল নিজেই গাড়িটি চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তেজগাঁও কার্যালয় চত্বর ঘুরিয়ে দেখান। বিশেষ এই যানের নাম দেয়া হয়েছে ‘এ টু আই স্মার্ট কার’।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটি পরিবেশবান্ধব বাহন তৈরি করায় ওয়াকিমুলের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই মেধাবী তরুণকে আরও কম খরচে আধুনিক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শ দেন এবং সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
যেভাবে শুরু হলো পথচলা: যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞানের ছাত্র ওয়াকিমুল ইসলাম একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ। তার বাবা পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। নিজের তৈরি গাড়ির পেছনের গল্পটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন ওয়াকিমুল। তিনি জানান, এক সময় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তাকে সারাদিন বাড়িতেই বসে থাকতে হতো। একাকী বাইরে চলাফেরা করার প্রবল ইচ্ছা থেকেই তিনি এই গাড়ি তৈরির কথা চিন্তা করেন এবং কঠোর পরিশ্রমে তা বাস্তবে রূপদান করেন।

স্মার্ট কারের বৈশিষ্ট্য: বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল জানান, এই স্মার্ট কারটি একবার বৈদ্যুতিক চার্জে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি আরও উন্নত ও বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করা সম্ভব, যা প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের চলাফেরায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
এই বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
স্মৃতিচারণ ও আড্ডার এই মিলনমেলা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াকিমুলের মতো সৃজনশীল তরুণদের আগামী দিনের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের কারিগর হিসেবে অভিহিত করেন।
