নতুন বছর শুরুর প্রায় দুই মাস আগেই, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটির পাশাপাশি তালিকায় স্থান পেয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক পর্বের ঐচ্ছিক ছুটি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মচারী নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন এই ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন।
তবে ইচ্ছেমতো বা হুট করে এই ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। বছরের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্বানুমোদন নিয়ে ঐচ্ছিক ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। তবে, সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশের ছুটি কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির (শুক্রবার ও শনিবার) সঙ্গে যুক্ত করে এই ছুটি কাটানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে টানা তিন থেকে চার দিনের লম্বা ছুটির সুযোগ তৈরি করবে।
ঐচ্ছিক ছুটির মাসভিত্তিক হিসাব
জানুয়ারি (২ দিন): ১ জানুয়ারি (শুক্রবার) খ্রিষ্টানদের ইংরেজি নববর্ষ এবং ৬ জানুয়ারি (বুধবার) মুসলিমদের পবিত্র শবে মিরাজ উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি থাকবে।
ফেব্রুয়ারি (৩ দিন): ১০ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) ভস্ম বুধবার (খ্রিষ্টান), ১১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সরস্বতী পূজা (সনাতন) এবং সম্ভাব্য ২০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) মাঘী পূর্ণিমা (বৌদ্ধ) উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়া যাবে। ১১ ফেব্রুয়ারি ছুটি নিলে পরের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা ৩ দিনের ছুটি পাবেন।
মার্চ (৭ দিন): ৬ মার্চ (শনিবার) শিবরাত্রি ব্রত, ১৩ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতরের পরের ৩য় দিন (সম্ভাব্য ঈদ ১০ মার্চ), ২২ মার্চ (সোমবার) দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ২৫ মার্চ (পুণ্য বৃহস্পতিবার), ২৬ মার্চ (পুণ্য শুক্রবার), ২৭ মার্চ (পুণ্য শনিবার) এবং ২৮ মার্চ (ইস্টার সানডে) ঐচ্ছিক ছুটি থাকবে। ২৫ ও ২৮ মার্চ ছুটি নিলে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে টানা ৪ দিনের ছুটি মিলবে।
এপ্রিল (৩ দিন): ৪ এপ্রিল (রোববার) হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব (সনাতন) উপলক্ষে ছুটি নিলে আগের দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৩ দিন ছুটি কাটানো যাবে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈসাবি ও সামাজিক উৎসব উপলক্ষে ১২ এপ্রিল (সোমবার) ও ১৫ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) এবং ১৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি পাবেন।
মে (২ দিন): বুদ্ধপূর্ণিমার আগে ১৯ মে (বুধবার) ও পরে ২১ মে (শুক্রবার) বৌদ্ধদের এবং ২১ মে (শুক্রবার) ঈদুল আজহার ৪র্থ দিনে (সম্ভাব্য ঈদ ১৭ মে) মুসলিমদের ঐচ্ছিক ছুটি থাকবে।
জুন: এই মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নেই।
জুলাই (২ দিন): ১৮ জুলাই (রোববার) আষাঢ়ী পূর্ণিমা (বৌদ্ধ) উপলক্ষে ছুটি নিলে আগের দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ৩ দিন ছুটি মিলবে। এছাড়া ২৮ জুলাই (বুধবার) আখেরি চাহার শোম্বা উপলক্ষে মুসলিমদের ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে।
আগস্ট: এই মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়নি।
সেপ্টেম্বর (৩ দিন): ১৩ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম (মুসলিম), ১৫ সেপ্টেম্বর (বুধবার) মধু পূর্ণিমা (বৌদ্ধ) এবং ৩০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) মহালয়া (সনাতন) পালিত হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর ছুটি নিলে পরের দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৩ দিন ছুটি মিলবে।
অক্টোবর (৫ দিন): দুর্গাপূজায় ১০ অক্টোবর (রোববার) বিজয়া দশমীতে সাধারণ ছুটি এবং ৯ অক্টোবর (শনিবার) নবমীতে নির্বাহী আদেশের ছুটি থাকবে। তার আগে ৭ ও ৮ অক্টোবর (সপ্তমী ও অষ্টমী) ঐচ্ছিক ছুটি নিলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা ৪ দিনের ছুটি পাবেন। এ ছাড়া ১৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) লক্ষ্মীপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা এবং ২৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটি নিলে উভয় ধর্মাবলম্বীরা সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা ৩ দিন করে ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন।
নভেম্বর: এই মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নেই।
ডিসেম্বর (২ দিন): ২৫ ডিসেম্বর শনিবার বড়দিন। এর পরদিন ২৬ ডিসেম্বর (রোববার) ঐচ্ছিক ছুটি নিলে আগের দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের টানা ৩ দিনের ছুটি মিলবে। এ ছাড়া ২৬ ডিসেম্বর (রোববার) সম্ভাব্য শবে মিরাজ উপলক্ষে ছুটি নিলে মুসলিম কর্মচারীরাও টানা ৩ দিনের ছুটি কাটানোর একই সুযোগ পাবেন।
