ট্রেনের টিকেটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনির অভিযোগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহজ ডটকমকে দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেয়। কিন্তু সেই আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একই সহজ ডটকমকে করা দুই লাখ টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও দিয়েছে হাইকোর্ট।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাণিজ্য সচিব ও ভোক্তা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। আর বিষয়টি ১৫ কার্যদিবস পর শুনানির জন্য রেখেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
রোববার (৩১ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবির লিটনের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানজিব উল আলম, আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। অপরদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল।
এর আগে গত ২৬ জুলাই ওই জরিমানার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে সহজ ডটকমের পক্ষে আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম এ রিট করেন।
গত সাত জুলাই রেলের অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদে ছয় দফা দাবিতে হাতে শিকল বেঁধে কমলাপুর স্টেশনে অবস্থান নেন মহিউদ্দিন রনি। টানা ১৯ দিন ধরে আন্দোলন করেন এই ঢাবির শিক্ষার্থী।
শুরুতে একা আন্দোলনে নামলেও পরে তার বন্ধু, সহপাঠীসহ আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাতে অংশ নেন। তারা কমলাপুর স্টেশনে অবস্থান নিয়ে গান, কবিতা, পথনাটক ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। যা সারাদেশে আলোড়ন তোলে। এরপর এই আন্দোলনে সমর্থন দেন অনেকে।
রনির অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২০ জুলাই শুনানির আয়োজন করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সহজের আইনজীবীও সেখানে ছিলেন।
আরও পড়ুন: হাইকোর্ট বিভাগে ১১ অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায়’ সহজ ডটকমকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ অভিযোগকারী মহিউদ্দিন রনি পাবেন।
সবশেষ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন রনি।
অপরদিকে সহজ ডটকম রনির অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়। তারা জানায়, গ্রাহকদের কোনো হয়রানি করে না তারা। এমনকি রনির অভিযোগের পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে।
একাত্তর/এসি
